{{ news.section.title }}
ছানি অপারেশন কি ভয়ের? জানুন কিভাবে ফিরে পাবেন চশমাহীন উজ্জ্বল দৃষ্টি!
আমাদের অনেকেরই ধারণা, চোখের ছানি শুধু বৃদ্ধদের হয়। তবে আধুনিক গবেষণা জানাচ্ছে ভিন্ন কথা। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত প্রভাবও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। বার্ধক্য বা এজিং প্রসেস অবশ্যই প্রধান কারণ। কেননা, সময়ের সাথে সাথে লেন্সের কোষগুলো পুনর্গঠিত হওয়ার ক্ষমতা হারায়। তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগগুলো এই প্রক্রিয়াকে কয়েক গুণে ত্বরান্বিত কর। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে লেন্সের ভেতর সরবিটল নামক উপাদান জমতে শুরু করে, যা লেন্সকে ফুলিয়ে দেয় এবং দ্রুত ছানি তৈরি করে!
চোখে ছানি পড়ার কারণ:
ছানি পড়ার পেছনে মূলত নিচের কারণগুলো দায়ী থাকে-
☞ বার্ধক্য (Aging): এটি ছানি পড়ার সবচেয়ে সাধারণ একটি কারণ। সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়সের পর লেন্সের প্রোটিন কাঠামোর পরিবর্তন হতে শুরু হয়।
☞ ডায়াবেটিস: উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চোখের লেন্সের বিপাকীয় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা দ্রুত ছানি সৃষ্টি করে।
☞ অত্যধিক সূর্যালোক (UV Rays): সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকলে লেন্সের অক্সিডেটিভ ক্ষতি হয়।
☞ চোখের আঘাত: সরাসরি চোখে আঘাত লাগলে লেন্সের ফাইবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছানি পড়তে পারে।
☞ স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ: দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড আই ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ছানি দেখা দেয়।
☞ বংশগতি: পরিবারের কারো অল্প বয়সে ছানি পড়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রধান লক্ষণসমূহ:
ছানি পড়লে আপনার দৃষ্টিতে নিচের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্যনীয় হবে :
⇨ ঝাপসা দৃষ্টি: মনে হবে যেন আপনি কুয়াশার ভেতর দিয়ে বা নোংরা চশমার কাঁচ দিয়ে দেখছেন।
⇨ আলোতে সংবেদনশীলতা: উজ্জ্বল আলো বা সূর্যের আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া।
⇨ রাতের দৃষ্টি কমে যাওয়া: রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হওয়া বা আলোর চারপাশে বলয় দেখা।
⇨রঙের পরিবর্তন: উজ্জ্বল রঙগুলো ফিকে বা হলুদাভ মনে হওয়া।
⇨ চশমার পাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন: বারবার চশমা বদলে যাওয়ার পরেও পরিষ্কার না দেখা।
অপারেশন কি জরুরি?
ছানি সাধারণত কোনো ওষুধ বা আই ড্রপ দিয়ে সারানো সম্ভব হয় না। লেন্স একবার ঘোলা হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করার একমাত্র উপায় হলো সার্জারি। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলো হলো:
☞ফ্যাকোইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification): এটি আধুনিকতম এক পদ্ধতি। আল্ট্রাসনিক তরঙ্গের মাধ্যমে ঘোলা লেন্সটিকে গলিয়ে বের করে আনা হয় এবং একটি কৃত্রিম ইন্ট্রাওকুলার লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোনো সেলাই বা ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় না।
☞ লেজার সার্জারি: রোবটিক লেজার ব্যবহারের মাধ্যমে লেন্স কাটা হয়, যা অত্যন্ত নিখুঁত।
প্রতিরোধে সচেতনতা:
যদিও বয়সজনিত ছানি পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়, তবে এর গতি ধীর করা সম্ভব।
⇨ রোদে বের হলে উন্নত মানের সানগ্লাস (UV Protection) ব্যবহার করা।
⇨ ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
⇨ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন: গাজর, পালং শাক, টমেটো, বাদাম ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া।
⇨ ধূমপান বর্জন করা, কারণ এটি লেন্সের অক্সিডেশন বাড়ায়।
বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের প্রধান কারণ হলো ছানি। অনেকে ভয় পেয়ে অপারেশন দেরি করেন, যার ফলে ছানি শক্ত হয়ে গ্লুকোমা'র মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় ছানি অপারেশন অত্যন্ত নিরাপদ এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। তাই দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।