{{ news.section.title }}
ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ৫টি অপরাজেয় ফর্মুলা!
জীবন যখন আপনাকে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়, তখন পথ খোলা থাকে দুটি। হয় ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া, আর নয়তো ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো ডানা মেলে ওড়া। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ কিংবা ক্যারিয়ারের ধস আমাদের পঙ্গু করে দিতে পারে মানসিকভাবে। কিন্তু এই অন্ধকারের পরেই লুকিয়ে আছে আপনার ভেতরের এক আসল শক্তি।মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় রেজিলিয়েন্স। কেন একই বিপদে কেউ হেরে যায় আর কেউ হয় অপ্রতিরোধ্য? আজকের আজকের আলোচনাতে উন্মোচন করা হবে সেই মানসিক স্থিতিস্থাপকতার গোপন বিজ্ঞান, যা আপনাকে যেকোনো প্রতিকূলতার মাঝেও জয়ী হতে শেখাবে।
রেজিলিয়েন্স আসলে কী?
সহজ কথায় বলতে গেলে, রেজিলিয়েন্স হলো মানসিক নমনীয়তা। একটি রাবার ব্যান্ডকে টানলে যেমন বড় হয় কিন্তু ছেড়ে দিলে আবার আগের জায়গাতেই আবার ফিরে আসে। রেজিলিয়েন্সও ঠিক তেমনি। এটি আপনাকে বিপদ থেকে বাঁচাবে না, কিন্তু বিপদে পড়ে ভেঙে যাওয়ার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করবে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, রেজিলিয়েন্স মানে টিকে থাকা নয়, বরং প্রতিকূলতাকে কাজে লাগিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা। এটি কারো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। এটি মস্তিষ্কের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ।
মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে?
আমরা যখন কোনো বড় বিপদের সম্মুখীন হই, তখন আমাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা নামক অংশটি ফাইট অর ফ্লাইট মোড সক্রিয় করে দেয়। এতে আমরা প্রচণ্ড রকমের ভয় পাই বা হতাশ হয়ে পড়ি। রেজিলিয়েন্স যাদের বেশি, তাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স বা যৌক্তিক অংশটি দ্রুত অ্যামিগডালাকে শান্ত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিউরোপ্লাস্টিসিটি নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে নতুনভাবে সাজাতে পারি। অর্থাৎ, বারবার ধৈর্য এবং ইতিবাচক চিন্তার চর্চা করলে মস্তিষ্ক, প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা জরুরি।
১. চিন্তার পুনর্গঠন: বিপদ যখন আসে, আমরা প্রায়ই ভাবতে থাকি, এমন কেন হলো! বা সব বুঝি শেষ হয়ে গেল! রেজিলিয়েন্স বাড়াতে এই চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন এই পরিস্থিতি থেকে আমি কী শিখতে পারি? বা এর চেয়েও খারাপ কী হতে পারত? সমস্যাকে স্থায়ী মনে না করে সাময়িক বাধা হিসেবে দেখা শিখুন।
২. সামাজিক সংযোগ: মানুষ একা একা বাঁচতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শক্তিশালী সামাজিক বা পারিবারিক বন্ধন আছে, তারা দ্রুত মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারে। আপনার কষ্টের কথা বিশ্বাসযোগ্য কারো সাথে শেয়ার করুন। অন্যের সহানুভূতি এবং সমর্থন মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৩. নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ: পরিস্থিতি আপনার হাতে না থাকলেও, পরিস্থিতির প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া আপনার হাতে। আপনি যা পরিবর্তন করতে পারবেন না, তা নিয়ে পড়ে না থেকে যা পরিবর্তন করা সম্ভব,
যেমন- আপনার রুটিন, খাদ্যাভ্যাস বা ছোট কোনো লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ দিন। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।
৪. আত্ম-করুণা : বিপদে পড়লে আমরা প্রায়ই নিজের ওপর কঠোর হয়ে যাই। নিজেকে এরুপ দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। আপনি আপনার কোনো প্রিয় বন্ধুকে যে চোখে দেখেন বা যেভাবে সান্ত্বনা দেন, নিজেকেও ঠিক সেভাবেই দেখুন। নিজের ভুলগুলোকে ক্ষমা করতে শিখুন। এটি আপনাকে মানসিক বোঝা থেকে মুক্ত করবে।
৫. শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি:
মস্তিষ্ক আর শরীর অবিচ্ছেদ্য। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম সরাসরি আপনার মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করে। এছাড়া প্রতিদিন ১০ মিনিট মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের স্ট্রেস নেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
রেজিলিয়েন্স কি কেবল ব্যক্তিগত?
না, রেজিলিয়েন্স সামষ্টিকও হতে পারে। একটি পরিবার বা একটি সমাজ যখন একে অপরের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেয়, তখন পুরো গোষ্ঠীটিই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বড় বড় দুর্যোগ বা যুদ্ধের পর যে জাতিগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাদের মধ্যে এই রেজিলিয়েন্স বা টিকে থাকার জেদ ছিল প্রবল।
জীবন আপনাকে বারবার নিচে ফেলে দিতে চাইবে। আর এটাই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আপনার ভেতরে থাকা রেজিলিয়েন্স আপনাকে বারবার উঠে দাঁড়াতে বলবে। রেজিলিয়েন্ট হওয়া মানে এই নয় যে আপনার কষ্ট হবে না। এর মানে হলো কষ্টের মধ্যেও আপনি আপনার দিশা হারাবেন না।