গিট না জানার চড়া মাশুল এবং কেন এটি প্রতিটি ডেভেলপারের জন্য অপরিহার্য!

গিট না জানার চড়া মাশুল এবং কেন এটি প্রতিটি ডেভেলপারের জন্য অপরিহার্য!
ছবির ক্যাপশান, গিট না জানার চড়া মাশুল এবং কেন এটি প্রতিটি ডেভেলপারের জন্য অপরিহার্য!

আপনি হয়তোবা দারুন কোড লিখতে পারেন, কিন্তু যদি গিট না জানেন, তবে প্রফেশনাল লাইফে আপনি কম্পাস ছাড়া এক দিশেহারা নাবিকের মতোই! সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সুবিশাল মহাসড়কে হাজার হাজার লাইনের কোড সামলানো সাধারণ

কোনো কাজ নয়। ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম বা VCS-এর রাজা গিট কেবল আপনার কোড সেভ করে না, এটি আপনার কাজের জন্য এক অজেয় নিরাপত্তা কবজও বটে। কেন গিট না জানা মানেই ক্যারিয়ারের মাঝপথে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি? আজকে থাকছে সে বিষয়েরই আলোচনা!

একটি ভুলের মাশুল যখন পুরো কোডবেস!
গিট না জানার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডেটা বা কোড হারিয়ে ফেলা। ধরুন, আপনি একটি বড় প্রজেক্টে কাজ করছেন এবং হঠাৎ করেই একটি নতুন ফিচার যোগ করতে গিয়ে আপনার আগের ভালো থাকা কোডগুলো নষ্ট হয়ে গেল। যদি আপনার কাছে কোনো ভার্সন কন্ট্রোল না থাকে, তবে আপনি চাইলেও কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন না। গিটের কমিট এবং রোলব্যাক সুবিধা না থাকলে একটি ছোট ভুল আপনার মাসের পর মাস করা পরিশ্রমকে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে। এটি অনেকটা সেফটি নেট ছাড়া সার্কাস দেখানোর মতোই বিপজ্জনক।

কোলাবরেশন বা দলগত কাজে স্থবিরতা!
আধুনিক বিশ্বে কোনো প্রজেক্টই একা একা করা হয় না। যখন একটি টিমে পাঁচজন ডেভেলপার একসাথে কাজ করেন, তখন গিট ছাড়া কাজ করা মানে হলো একে অপরের কোড ম্যানুয়ালি কপি পেস্ট করা। গিট না জানলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে আপনার সহকর্মী কোন ফাইলে কী পরিবর্তন করেছেন। এর ফলে তৈরি হয় কোড কনফ্লিক্ট। ভার্সন কন্ট্রোল ছাড়া টিমে কাজ করতে গেলে একজনের কোড অন্যজনের কোডকে ওভাররাইট বা মুছে ফেলে, যা প্রজেক্টের গতি কমিয়ে ফেলে এবং ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে টিমের মধ্যে।

ফিচারের এক্সপেরিমেন্টেশনে ভয়!
একজন দক্ষ ডেভেলপার সবসময় নতুন কিছু ট্রাই করতে আগ্রহী হোন। কিন্তু গিট না জানলে আপনি নতুন কোনো আইডিয়া ইমপ্লিমেন্ট করতে ভয় পাবেন। কারণ আপনার মনে সবসময় ভয় থাকবে, যদি নতুন কোডটি লিখতে গিয়ে পুরনো কাজগুলো নষ্ট হয়ে যায়! গিটের ব্রাঞ্চিং সিস্টেম আপনাকে এই স্বাধীনতা দেয়। আপনি মূল প্রজেক্ট ঠিক রেখেই আলাদা একটি শাখায় নতুন কাজ করতে পারেন। যদি কাজ না করে, তবে স্রেফ সেই শাখাটি মুছে দিলেই হয়। এই অভয়টুকু না থাকলে আপনার সৃজনশীলতা এবং শেখার গতি থমকে যাবে।

প্রফেশনাল ক্রেডিট এবং ক্যারিয়ারের অভাব!
বর্তমানে টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে ছোট স্টার্টআপ, সবাই-ই নিয়োগের সময় প্রার্থীর GitHub বা GitLab প্রোফাইল চেক করে থাকেন। আপনি কত ভালো কোড লিখলেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি সেই কোড কীভাবে ম্যানেজ করছেন। গিট না জানা মানে হলো আপনি আধুনিক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট লাইফসাইকেল সম্পর্কে অজ্ঞ!ইন্টারভিউ বোর্ডে এটি আপনার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। বড় কোম্পানিগুলোতে সিআই/সিডি (CI/CD) পাইপলাইনের মাধ্যমে কোড অটোমেটিক ডেপ্লয় হয়, যা গিটের ওপর নির্ভরশীল। তাই গিট না জানলে ভালো বেতনের প্রফেশনাল চাকরিতে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।

ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউশনে বাধা!
পৃথিবীর সেরা সফটওয়্যারগুলো, যেমন: লিনাক্স, রিয়্যাক্ট, পাইথন ইত্যাদি ওপেন সোর্স এবং এগুলো গিটের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। আপনি যদি গিট না জানেন, তবে আপনি বিশ্বের বড় বড় কমিউনিটির সাথে যুক্ত হতে পারবেন না। অন্য কারো প্রজেক্টে কোনো বাগ ফিক্স করা বা নতুন কোনো ফিচার যোগ করার যে আনন্দ এবং লার্নিং সুযোগ, তা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। নিজের জ্ঞানকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হলো গিট ভিত্তিক রিপোজিটরিগুলো।

ব্যাকআপ এবং ট্র্যাকিংয়ের অভাব!
আপনার কম্পিউটার যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা চুরিও হতে পারে। গিট ব্যবহার করলে আপনার কোড ক্লাউডে (GitHub/Bitbucket) নিরাপদ থাকবে। এছাড়া গিটের মাধ্যমে আপনি দেখতে পারবেন কেন, কখন এবং কার নির্দেশে কোডের একটি নির্দিষ্ট লাইন পরিবর্তন করা হয়েছিল। একে বলা হয় গিট ব্লেম বা হিস্ট্রি ট্র্যাকিং। এই জবাবদিহিতা না থাকলে ভবিষ্যতে বড় কোনো বাগ বা ত্রুটি দেখা দিলে তার উৎস খুঁজে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

গিট শেখা মানে কিছু কমান্ড শুধু মুখস্থ করা নয়, এটি গুছিয়ে কাজ করার একটি দর্শন। শুরুতে এটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু একবার আয়ত্ত করতে পারলে এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হবে।
 


সম্পর্কিত নিউজ