শুষ্ক ত্বকের যত্নে অয়েল নাকি ময়েশ্চারাইজার? জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য সেরা!

শুষ্ক ত্বকের যত্নে অয়েল নাকি ময়েশ্চারাইজার? জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য সেরা!
ছবির ক্যাপশান, শুষ্ক ত্বকের যত্নে অয়েল নাকি ময়েশ্চারাইজার? জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য সেরা!

আয়নার সামনে দাঁড়ালেই কি নিস্তেজ আর ফেটে যাওয়া ত্বক আপনার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে? শুষ্ক ত্বক শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক সমস্যা নয়, এটি আপনার শরীরের ভেতর থেকে আসা একটি সতর্কবার্তা। যখন আপনার এপিডার্মিস তার আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়, তখন শুরু হয় অস্বস্তিকর চুলকানি আর অকাল বার্ধক্যের ছাপ।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো একটি সঠিক ময়েশ্চারাইজার। অনেকেই মনে করে থাকে   ময়েশ্চারাইজার কেবল তেল দেয়, কিন্তু এর আসল কাজ হলো ত্বকের কোষে পানি পৌঁছে দেওয়া। একটি ভালো ময়েশ্চারাইজারে সাধারণত তিনটি উপাদান থাকে।

১। হিউমেকট্যান্ট (Humectants): যেমন- গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড। এগুলো বাতাস থেকে পানি টেনে নিয়ে ত্বকের গভীরে পৌঁছে দেয়।

২। ইমোলিয়েন্ট (Emollients): এগুলো ত্বকের মৃত কোষের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে ত্বককে নরম ও মসৃণ করে।

৩। অক্লুসিভ (Occlusives): এগুলো ত্বকের ওপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে যাতে ভেতরের পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে না পারে।

শুষ্ক ত্বকে প্রাকৃতিক তেলের বা লিপিডের ঘাটতি থাকে। ফেস অয়েল এই ঘাটতি পূরণ করে ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার বা সুরক্ষা দেয়াল মজবুত করে। তবে সব তেল সবার জন্য নয়।যেমন -

রোজহিপ অয়েলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ থাকে, যা শুষ্ক ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে জাদুর মতো কাজ করে। আবার আর্গান অয়েলকে বলা হয় 'লিকুইড গোল্ড'। এটি ত্বকের গভীরে পৌঁছে আর্দ্রতা লক করে দেয় এবং কালচে ছোপ দূর করে। আর স্কোয়ালেন আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের সাথে হুবহু মিলে যায়, তাই এটি খুব দ্রুত শুষে নেয় এবং কোনো চটচটে ভাব থাকে না।

গভীর পুষ্টি ও সুরক্ষা:
⇨ বডি বাটার বা ন্যাচারাল বাটার: খুব বেশি শুষ্ক বা ফেটে যাওয়া ত্বকের জন্য, বিশেষ করে হাত, পা ও কনুইয়ে বডি বাটার বা ন্যাচারাল বাটার অপরিহার্য। এটি সাধারণ লোশনের চেয়ে অনেক বেশি ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী।

⇨ শিয়া বাটার: এতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই এবং এফ থাকে। এটি ময়েশ্চারাইজ করে এবং পাশাপাশি ত্বকের জ্বালাপোড়া বা রেডনেস কমাতেও সাহায্য করে।

⇨কোকো বাটার : এটি ত্বকের নমনীয়তা বাড়ায়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের তাপমাত্রায় গলে যায় এবং ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা ধরে রাখে।

লেয়ারিং পদ্ধতিতে যেভাবে ব্যবহার করবেন:
শুষ্ক ত্বকের পূর্ণ সুফল পেতে সঠিক ক্রমে পণ্যগুলো ব্যবহার করা জরুরি। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'স্যান্ডউইচ মেথড'।

মুখ ধোয়ার পর ত্বক যখন হালকা ভেজা থাকে, তখনই কাজ শুরু করুন। প্রথমে আপনার ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম লাগান যাতে এটি পানি টেনে নিয়ে ত্বকের ভেতরে যায়। সবশেষে কয়েক ফোঁটা ফেস অয়েল বা বাটার লাগান। এটি একটি সীল (Seal) হিসেবে কাজ করবে, যা আপনার ময়েশ্চারাইজারের পানিকে বাইরে বের হতে দেবে না।

সতর্কতা: শুষ্ক ত্বক হলে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। যেমন-
☞ অতিরিক্ত গরম পানি। গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের অবশিষ্ট প্রাকৃতিক তেলও ধুয়ে যায়। সবসময় কুসুম কুসুম গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন।

☞ অ্যালকোহলযুক্ত টোনার। অনেক টোনারে অ্যালকোহল থাকে যা ত্বককে মরুভূমির মতো শুষ্ক করে দেয়। সবসময় অ্যালকোহল মুক্ত  পণ্য বেছে নিন।

☞ সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী শুষ্ক ত্বকে ইরিটেশন তৈরি করতে পারে।
 


সম্পর্কিত নিউজ