আধা সেদ্ধ ডিম কি আসলেই নিরাপদ নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? জানুন আসল সত্য!

আধা সেদ্ধ ডিম কি আসলেই নিরাপদ  নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? জানুন আসল সত্য!
ছবির ক্যাপশান, আধা সেদ্ধ ডিম কি আসলেই নিরাপদ নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? জানুন আসল সত্য!

সকালের নাস্তায় টোস্টের সাথে পোচ বা হাফ বয়েলড ডিম খাওয়ার আভিজাত্যই আলাদা। কিন্তু রসনাবিলাসের পাশাপাশি একটি প্রশ্ন সবসময়ই আমাদের তাড়া করে বেড়ায়, আর তা হলো এটি খাওয়া কি পুরোপুরি নিরাপদ! আজকের প্রতিবেদনে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কেন অনেকে আধা সেদ্ধ ডিম পছন্দ করেন? 
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমকে অতিরিক্ত তাপে দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে এর ভেতরের কিছু সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আধা সেদ্ধ ডিমে ভিটামিন A, ভিটামিন B12 এবং লুটেইনের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্টগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে। অতিরিক্ত তাপে এগুলো কিছুটা গুণাগুণ হারায়। অনেকেই মনে করেন, ডিমের কুসুম কাঁচা বা আধা কাঁচা অবস্থায় থাকলে তা শরীরের জন্য শোষণ করা সহজ হয়।

ঝুঁকি: 
আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো সালমোনেলা নামক একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি মূলত হাঁস মুরগির অন্ত্রে থাকে এবং ডিম পাড়ার সময় খোসার মাধ্যমে বা ডিম তৈরির সময় ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে। আর যদি কোনো ডিমে সালমোনেলা থাকে এবং সেটি পর্যাপ্ত তাপে (অন্তত ৭০°C বা ১৬০°F) রান্না না করা হয়, তবে তা শরীরে প্রবেশ করে ফুড পয়জনিংও ঘটাতে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া, বমি, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

যদিও আধুনিক পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে আলাদা নজর দেওয়া হয়, তবুও কাঁচা বা আধা সেদ্ধ ডিমে এই ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

কাদের জন্য আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর সাধারণত এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া মোকাবিলা করতে পারলেও নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য এটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।যেমন-

⇨ গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় সালমোনেলা সংক্রমণ গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে।

⇨ শিশু ও বৃদ্ধ: ছোট শিশু এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হতে পারেন।

⇨ দুর্বল ইমিউন সিস্টেম: যারা দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগে ভুগছেন বা যাদের ইমিউনিটি কম, তাদের জন্য আধাসেদ্ধ ডিম জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আধা-সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে একটি মজার তথ্য হলো, ডিমের কুসুম আধা কাঁচা খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ হলেও, সাদা অংশ কাঁচা রাখা ঠিক নয়। কাঁচা সাদা অংশে অ্যাভিডিন নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে যা শরীরে ভিটামিন B7 (Biotin) শোষণে বাধা দেয়। সাদা অংশ ভালোভাবে সেদ্ধ হলে এই বাধা দূর হয়। তাই আপনি যদি হাফ বয়েলড খান, খেয়াল রাখবেন সাদা অংশটি যেন অন্তত জমাট বাঁধে।

ঝুঁকি কমানোর উপায়: 
যারা হাফ বয়েলড ডিম ছাড়া নাস্তা ভাবতেই পারেন না, তারা নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

⇨ পাস্তুরিত ডিম: বাজারে এখন পাস্তুরিত ডিম পাওয়া যায় যা একটি নির্দিষ্ট তাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয় যেন ভেতরে ব্যাকটেরিয়া মরে যায় কিন্তু কুসুম কাঁচা থাকে। হাফ বয়েলড খাওয়ার জন্য এটিই সবচেয়ে নিরাপদ।

⇨ তাজা ও পরিষ্কার ডিম: সবসময় পরিষ্কার খোসাযুক্ত এবং টাটকা ডিম কিনুন। ফাটা বা নোংরা ডিম কখনোই আধা সেদ্ধ করে খাবেন না।

⇨ ফ্রিজে সংরক্ষণ: ডিম সবসময় ফ্রিজে (৪°C বা ৪০°F এর নিচে) রাখুন। কক্ষ তাপমাত্রায় রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে।


সম্পর্কিত নিউজ