{{ news.section.title }}
স্মৃতিশক্তি বাঁচাতে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুম জরুরি? বিজ্ঞান যা বলে!
সারারাত জেগে নেটফ্লিক্স দেখা কিংবা অফিসের কাজ শেষ করাকে আপনার কাছে কেবল কয়েক ঘণ্টার ঘুম বিসর্জন দেয়া মনে হতে পারে।কিন্তু আপনার মস্তিষ্কের কাছে এটি একটি বড় ধরনের সিস্টেম ক্রাশ। আপনি যখন ঘুমান না, আপনার মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নতুন তথ্যগুলো স্থায়ীভাবে জমা করার ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলে। অর্থাৎ, আপনি যা শিখছেন বা দেখছেন, মস্তিষ্ক তা সেভ করার বদলে ডিলিট করে দিচ্ছে!
আমরা সারাদিন যা দেখি, শুনি বা শিখি, তা প্রথমে আমাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামক একটি অস্থায়ী জায়গায় জমা হয়। একে আপনি কম্পিউটারের র্যাম-এর সাথে তুলনা করতে পারেন। কিন্তু এই তথ্যগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর করতে হলে সেগুলোকে মস্তিষ্কের স্থায়ী স্টোরেজ বা নিওকর্টেক্স-এ পাঠাতে হয়। এই স্থানান্তরের কাজটি মূলত ঘটে আমরা যখন গভীরভাবে ঘুমাই তখন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোকে পুনরায় রিলে করে এবং সেগুলোকে স্থায়ী স্মৃতি হিসেবে গেঁথে নেয়। যখন আপনি কম ঘুমান, তখন এই কনসলিডেশন প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে আগের দিনের শেখা অনেক কিছুই মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে পারে না।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা দেখেছেন যে, ঘুমের অভাব হিপোক্যাম্পাসের কর্মক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। হিপোক্যাম্পাস অনেকটা ইনবক্সের মতো। এর ধারণক্ষমতা সীমিত। আপনি যদি পর্যাপ্ত না ঘুমান, তবে আপনার এই ডিজিটাল ইনবক্সটি পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে পরদিন আপনি যখন নতুন কোনো তথ্য বা পড়া শেখার চেষ্টা করেন, তখন মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করার জায়গা পায় না। এটিই প্রধান কারণ কেন পরীক্ষার আগের রাতে না ঘুমিয়ে পড়লে পরদিন পরীক্ষার হলে সব গুলিয়ে যায়।
মস্তিষ্কের আবর্জনা পরিষ্কারের প্রক্রিয়া!
২০১৩ সালে রচেস্টার ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। আমাদের শরীরে যেমন লিমফ্যাটিক সিস্টেম আছে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য, মস্তিষ্কেও আছে 'গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম'। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলো কিছুটা সংকুচিত হয় এবং কোষের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিশেষ এক ধরনের তরল প্রবাহিত হয়। এই তরলটি সারাদিনের বিপাকীয় বর্জ্য এবং বিটা-অ্যামাইলয়েড নামক বিষাক্ত প্রোটিন ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। এই বিটা-অ্যামাইলয়েড প্রোটিনই আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রম রোগের জন্য প্রধানত দায়ী। দিনের পর দিন ঘুম কম হলে এই বিষাক্ত প্রোটিন মস্তিষ্কে জমতে থাকে এবং স্নায়ু কোষগুলোর সংযোগ নষ্ট করে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিশক্তির ওপর।
মনোযোগ এবং ফোকাস নষ্ট হওয়া:
স্মৃতিশক্তির প্রথম ধাপ হলো মনোযোগ দেওয়া। আপনি যদি কোনো বিষয়ে মনোযোগই না দেন, তবে সেটি মস্তিষ্ক রেকর্ডই করবে না। ঘুমের অভাব আমাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স-কে দুর্বল করে দেয়, যা মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দায়ী। অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে আপনি সারাদিন এক ধরণের ঘোরের মধ্যে থাকেন, যা আপনার নতুন তথ্য গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ, আপনার স্মৃতিশক্তি কেবল সংরক্ষণের অভাবে নয়, বরং তথ্য ঠিকমতো রেকর্ড করতে না পারার কারণেও কমে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি:
☞ স্মৃতিভ্রম: দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা প্রবীণ বয়সে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
☞ ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া: তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মানুষ ছোট ছোট কাজে ভুল করতে শুরু করে।
☞ আবেগীয় অস্থিতিশীলতা: ঘুমের অভাব মানুষকে খিটখিটে করে তোলে, যা সামাজিক স্মৃতি এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধা দেয়।
আমরা অনেক সময় ভাবি ঘুম মানেই সময় নষ্ট। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ঘুম হলো মস্তিষ্কের রিচার্জিং এবং ক্লিনিং পিরিয়ড। আপনার স্মৃতিশক্তিকে ধারালো রাখতে এবং মস্তিষ্ককে রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। আপনি যদি আপনার ক্যারিয়ার বা পড়াশোনায় সফল হতে চান, তবে রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করে ঘুমের সাথে বন্ধুত্ব করুন। কারণ একটি সতেজ মস্তিষ্কই পারে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যটি মনে করিয়ে দি