{{ news.section.title }}
ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করুন পুষ্টিগুণে ঠাসা শাহী পায়া স্যুপ!
বৃষ্টির দিনে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি পায়া স্যুপ আর গরম নান! ভোজনরসিকদের কাছে এর চেয়ে বড় সুখ আর নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই এক বাটি স্যুপ আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কতটা শক্তিশালী করতে পারে! কোলাজেন সমৃদ্ধ এই পানীয়টি কেবল আপনার পেশি নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যকেই পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। কীভাবে বাড়িতেই একদম রেস্টুরেন্ট স্টাইলে অথচ স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করবেন এই জাদুকরী স্যুপ? সেরা রেসিপি আর বেশ কিছু টিপস নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি।
কেন পায়া স্যুপ স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য?
পায়া বা গরুর পায়া মূলত ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের এক বিশাল ভাণ্ডার। রান্নার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় হাড়ের ভেতর থেকে যে জিলাটিন বেরিয়ে আসে, তা আমাদের পাকস্থলীর দেয়াল রক্ষা করে এবং হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। এছাড়া জয়েন্টের ব্যথা উপশমে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এই স্যুপের কোনো জুড়ি নেই। বাজারের কেনা স্যুপের চেয়ে ঘরে তৈরি এই পায়া স্যুপটি অনেক বেশি খাঁটি এবং কেমিক্যালমুক্ত।
উপকরণ:
১. ১ কেজি গরুর পায়া। ভালো করে পরিষ্কার করে ছোট টুকরো করে নিতে হবে।
২. ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি।
৩. ২ টেবিল চামচ আদা ও রসুন বাটা।
৪. আস্ত গরম মসলা: এলাচ ৪-৫টি, দারুচিনি ৩ টুকরো, লবঙ্গ ৪-৫টি এবং তেজপাতা ২-৩টি।
৫. ১ চা চামচ করে হলুদ ও ধনে গুঁড়ো।
৬. ১ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো।এটি হজমে সহায়তা করে এবং ঝাল স্বাদ আনে।
৭. সয়াবিন বা সরিষার তেল- সামান্য পরিমাণ।
৮. লবণ- স্বাদমতো।
৯. গার্নিশিংয়ের জন্য- আদা কুচি, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা এবং লেবুর রস।
প্রস্তুত প্রণালী:
পায়া রান্নার মূল রহস্য হলো ধৈর্য। এটি যত ধীর তাপে রান্না হবে, এর ঝোল তত ঘন এবং পুষ্টিকর হবে।
গরুর পায়া পরিষ্কার করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। প্রথমে পায়াগুলো গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ছুরি দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। এরপর সামান্য আটা বা ময়দা মাখিয়ে ধুয়ে ফেললে এর গায়ে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ময়লা চলে যাবে। পরিষ্কার করা পায়াগুলো বড় একটি পাত্রে নিন।
তারপর একটি প্রেশার কুকার বা ভারী তলার হাঁড়িতে সামান্য তেল দিন। তেল গরম হলে আস্ত গরম মসলাগুলো দিয়ে সুগন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালী করে ভেজে তাতে আদা-রসুন বাটা, হলুদ, ধনে গুঁড়ো এবং সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে দিলে পরিষ্কার করা পায়াগুলো দিয়ে দিন। ৫-১০ মিনিট মাঝারি আঁচে পায়াগুলো মসলার সাথে নাড়াচাড়া করুন যাতে মসলা ভেতরে পৌঁছাতে পারে।
এবার এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরম পানি দিন। পায়া ডুবে তার ওপরে অন্তত ৪-৫ ইঞ্চি পানি থাকতে হবে। প্রেশার কুকারে রান্না করলে অন্তত ৮-১০টি সিটি দিতে হবে। আর যদি সাধারণ হাঁড়িতে রান্না করেন, তবে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে ৩-৪ ঘণ্টা সময় দিন। মনে রাখবেন, হাড়ের চারপাশের মাংস যখন নরম হয়ে খুলে আসার উপক্রম হবে এবং ঝোলটি আঠালো হয়ে আসবে, তখনই বুঝবেন আপনার পায়া স্যুপ তৈরি।
রান্না শেষে একটি ছোট প্যানে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি লালচে করে ভেজে নিন। এই মিশ্রণটি ফুটন্ত স্যুপের ওপর ঢেলে দিন। এটি স্যুপের স্বাদ এবং ঘ্রাণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সবশেষে গোলমরিচ গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন।
পুষ্টিগুণ ও প্রভাব:
পায়া স্যুপে থাকা উপাদানগুলো শরীরের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এটি ত্বকের কুঁচকানো ভাব দূর করে এবং হাড়ের জয়েন্টগুলোকে সচল রাখে।
দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়া হাড়ের মজ্জা শরীরের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধে কার্যকর। এতে থাকা গ্লাইসিন এবং প্রোলিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে অনেকটা সাহায্য করে।
পরিবেশন ও খাওয়ার নিয়ম:
গরম গরম পায়া স্যুপ একটি বাটিতে নিয়ে ওপরে আদা কুচি, মিহি করে কাটা ধনেপাতা এবং কাঁচামরিচ ছড়িয়ে দিন। সবশেষে এক টুকরো লেবুর রস চিপে দিন। লেবুর ভিটামিন সি হাড় থেকে নির্গত আয়রন এবং ক্যালসিয়াম শোষণে শরীরকে সাহায্য করে। এটি আপনি নান রুটি, পরোটা কিংবা এমনিতেও পান করতে পারেন।