বিদ্যুৎখাতে তীব্র অর্থসংকটঃ সরকারি সংস্থার কাছে বকেয়া ২৬১২ কোটি টাকা

বিদ্যুৎখাতে তীব্র অর্থসংকটঃ সরকারি সংস্থার কাছে বকেয়া ২৬১২ কোটি টাকা
ছবির ক্যাপশান, বিদ্যুৎখাতে তীব্র অর্থসংকটঃ সরকারি সংস্থার কাছে বকেয়া ২৬১২ কোটি টাকা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Nur Muhammad

বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অঙ্কের বকেয়া আটকে যাওয়ায় আর্থিক টানাপোড়েনে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। বর্তমানে এই বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দফতর, এমনকি খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোরও বকেয়া রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আর্থিক সংকট কাটাতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির অর্থ উপদেষ্টার কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও) পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ বিল অনাদায়ী থাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের উন্নয়ন কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে বকেয়ার চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছেঃ

-ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ডিপিডিসিঃ ৭৭৩ কোটি টাকা
-ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লি. (ডেসকো): ৫৫৪ কোটি টাকা
-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো): ৪৫৬ কোটি টাকা
-নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লি. (নেসকো): ৩৭১ কোটি টাকা
-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো): ২৪৫ কোটি টাকা
-ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (ওজোপাডিকো): ২১১ কোটি টাকা

এছাড়া বকেয়ার শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। বকেয়া রয়েছে ৯৯৫ কোটি টাকা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বকেয়া বিলের সবচেয়ে বড় অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) আওতাধীন সংস্থাগুলোর। এই বিভাগের কাছে মোট ৯৯৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওয়াসাগুলোর বকেয়া। বিশেষ করে সড়কবাতির বিলের কারণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বকেয়া বেড়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে, যার পরিমাণ ৫৯৪ কোটি টাকা। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল এই বকেয়ার একটি বড় অংশ।

এছাড়াও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৩৯ কোটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের ১৩৩ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ৮০ কোটি, জননিরাপত্তা বিভাগের ৭৮ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭২ কোটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

এই সঙ্কট নিরসনে, বকেয়া আদায়ের জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো কয়েক বছর ধরে মিটিং, চিঠি পাঠানো এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও সফল হতে পারেনি। তাই, বিদ্যুৎ বিভাগ এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


এর আগে, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ দু'বার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানদের কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ডিও লেটার দিয়ে এই সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, এই বিশাল বকেয়া সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

সম্পর্কিত নিউজ