{{ news.section.title }}
নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রুপ
- Author, জাগরণ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সামনে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কারের মাধ্যমে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান মেরামত, কর্মসংস্থান তৈরি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসন, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর উত্থান রোধ এবং আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনা বা মোকাবিলা করা। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যর্পণ এবং জলবায়ু সমস্যার মোকাবিলাও করতে হবে। ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর নিবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে।সংস্থাটির বাংলাদেশ ও মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক টমাস কিন বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধটি লিখেছেন। এটি সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ঘণ্টা: ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
পরবর্তী সরকারকে কী কী প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে?
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট শুধু বাংলাদেশকে একটি দৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনবে না, বরং ডিসেম্বর ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রকৃত গণম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকারকে ক্ষমতায় আনবে। তবে নতুন প্রশাসনকে একগুচ্ছ বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—দুর্বল প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল মন্থর অর্থনীতি, পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব।
এছাড়াও জটিল পররাষ্ট্রনীতির বিষয়গুলো সামলাতে হবে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্রমবর্ধমান যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব এবং মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি শিবিরে আটকে থাকা এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংকট সমাধানে অগ্রগতির অভাব। একই সঙ্গে হিজবুত তাহরিরের মতো উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যা হাসিনার পতনের পর আরও দৃশ্যমান হয়েছে, এবং সহিংস চরমপন্থী কার্যকলাপ নজরদারিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগামী বছরগুলোতে স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বড় হুমকি আসতে পারে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতা থেকে। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের নিচে, এবং তাদের অনেকেই শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে, যা গভীর হতাশার জন্ম দিচ্ছে। চাকরির সুযোগের বাইরে, তরুণরা চায় দেশ আরও সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হোক এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল আরও সমভাবে বণ্টিত হোক। জুলাই চার্টার দিয়ে শুরু হওয়া সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো ব্যর্থতা রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কেবল লোকদেখানো বলে মনে করার ধারণা আরও জোরদার করতে পারে।
নতুন সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার জটিল বিষয়টিও মোকাবিলা করতে হবে। দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও শক্তিশালী ভোটব্যাংক থাকার কারণে আওয়ামী লীগকে চিরদিন রাজনীতির বাইরে রাখা সম্ভব নয়। তবে হাসিনার শাসনামলে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দলের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন নেতৃত্বের অধীনেও দলটিকে আবার নির্বাচনী অঙ্গনে ফিরতে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হবে। আওয়ামী লীগের কোনো না কোনোভাবে প্রত্যাবর্তনের শর্ত নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে এই ইস্যু বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার ঝুঁকি কমতে পারে।
তবে এর জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো সহিংসতার জন্য প্রকৃত অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে—যা শেখ হাসিনা এখনো করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ভারতসহ প্রভাবশালী অন্যান্য বিদেশি সরকার ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে দলটির সংলাপ সহজ করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে।
পাঁচ বছরের মেয়াদপ্রাপ্ত একটি নির্বাচিত সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় দেশের রাজনৈতিক বিভাজন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশি সক্ষম হবে। তবে সামনে থাকা কাজগুলো অনেক এবং জটিল। যেসব বিদেশি সরকার ইউনূস ও তাঁর সহকর্মীদের সমর্থন জানিয়েছে, তাদের উচিত নতুন সরকারের পাশে দাঁড়ানো, যাতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।