{{ news.section.title }}
র্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম 'এসআইএফ'
- Author, জাগরণ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
এলিট ফোর্স র্যাব এর নাম পরিবর্তনের সীদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট) থেকে পরিবর্তন হয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) হিসিবে বহুল পরিচিত এই ফোর্সের নাম পরিবর্তন হয়ে নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। শিগগিরই নাম পরিবর্তন করে সরকারি আদেশ জারী করা হবে।
আজ (মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পোশাকও বানানো হচ্ছে।’
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ছিলেন। বেনজীর আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন তিনি। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশও রয়েছে। র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে আসছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এলিট ফোর্স র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলো বিএনপিও। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংস্কারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনী বিলুপ্তি ছাড়া উপায় নেই।’
সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে র্যাবের গত দুই দশকের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ সময়কালে বাহিনীটি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও তুরস্কের মতো দেশে এলিট ফোর্স কীভাবে কাজ করে—তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়া হয়।