{{ news.section.title }}
গণভোটে 'হ্যাঁ' এবং 'না' নিয়ে যা বললেন বাইতুল মোকাররমের খতিব
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক আসন্ন গণভোট এবং নাগরিকের ভোটাধিকারের গুরুত্ব নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। সম্প্রতি একটি খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র 'আমানত' হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিম্নে খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের গুরত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরা হলো-
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ উভয় অপশনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, যেহেতু গণভোটে 'হ্যাঁ' এবং 'না' দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে, তার মানে জনগণের 'না' ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সরকার বা কোনো দল 'হ্যাঁ' ভোট দিতে উৎসাহিত করলেও, 'না' ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য মনে করা উচিত নয়।
শীর্ষস্থানীয় এই আলেম একটি জটিল বিষয়ের দিকে আঙুল তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন পাঁচ-ছয়টি আলাদা বিষয়কে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তরের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে? এর ফলে ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের সাথে একমত এবং অন্যটির সাথে দ্বিমত থাকলেও আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। 'হ্যাঁ' বললে সবগুলোতে 'হ্যাঁ' এবং 'না' বললে সবগুলোতে 'না' বলতে হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, এতে সাধারণ মানুষ এক ধরনের ‘মসিবত’ বা পেরেশানিতে পড়েছে। কারণ, একজন নাগরিক হয়তো দু-তিনটি বিষয়ের সাথে একমত হতে পারেন, কিন্তু অন্য বিষয়গুলোর সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। অথচ সিস্টেমটি এমন যেখানে ‘হ্যাঁ’ বললে সবকিছুর ওপর ‘হ্যাঁ’ বলতে হচ্ছে।
মুফতি আব্দুল মালেক ভোটকে একটি 'আমানত' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয় পেয়ে, লোভে পড়ে বা প্ররোচিত হয়ে ভোট দেওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে এবং বিজ্ঞ ও নেককার ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল দলের নাম, মনোগ্রাম বা আকর্ষণীয় শ্লোগান দেখে প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাইতুল মোকাররমের খতিব। বিশেষ করে অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও তাদের ইশতেহার বা কর্মকাণ্ড কতটুকু ইসলামসম্মত, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "শুধু ইসলামের নাম আছে বলেই চোখ বন্ধ করে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।"
"অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও তাদের ইশতেহার বা কর্মকাণ্ড সেকুলার দলের মতো হতে পারে। তাই কোনো দলের আদর্শ, লক্ষ্য এবং তারা প্রকৃত ইসলাম বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন", বলেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, নাগরিকদের প্রতি তার পরামর্শ হলো, ভোট দেওয়ার আগে চিন্তাভাবনা করা, অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করা এবং আল্লাহর কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দোয়া করা। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না নিয়ে ভোটারদের একটি বিশেষ দোয়া করতে বলেন। তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা আসা উচিত যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, যারা পরকালের জবাবদিহিতাকে বিশ্বাস করে এবং যাদের হৃদয়ে সৃষ্টির প্রতি দয়া-মায়া আছে। যাদের অন্তরে খোদাভীতি নেই এবং জনগণের প্রতি মমতা নেই, তাদের হাতে ক্ষমতা না দেওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন।
এ দিনের খুতবায় মুফতি আব্দুল মালেকের মূল বার্তা ছিল—ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করা, প্রলোভন বা চাপে না পড়া এবং বাহ্যিক প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির অন্তরের তাকওয়া ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া।
পরিশেষে তিনি বলেন, দেশের উন্নতি কেবল ভোটের ওপর নির্ভর করে না, বরং শাসকদের নিয়ত এবং জনগণের কিসমতের ওপরও নির্ভর করে। তাই কোনো প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে বিবেক দিয়ে আমানত রক্ষা করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। আমাদের উচিত চিন্তা ভাবনা করে ভোট দেওয়া।