{{ news.section.title }}
লাল পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিলেন ১৩ উপদেষ্টা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ভোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেও বিদায়ের প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। কেউ ইতোমধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন, আবার কেউ ধাপে ধাপে সেই প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছেন।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে দুজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলছেন, যত দিন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকবেন, তত দিন লাল পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখবেন। ‘বিদায় নেওয়ার সময় সরকারি সব দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্টও জমা দেব’- এমন কথাই বলছেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা।
এদিকে অনেক উপদেষ্টা তাদের ব্যক্তিগত নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ইতোমধ্যে স্টাফদের মাধ্যমে সরকারি দপ্তর থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করার কাজও চলছে। উপদেষ্টাদের ভাষ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেন কোনো ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব না হয়, সে জন্য আগেভাগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেন কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়, সে লক্ষ্যেই সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ইতোমধ্যে সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সরকারি বাসভবন ছাড়বেন এবং তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নতুন সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট কার্যকারিতা হারায়।
এরই মধ্যে অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন বা আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এবং বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাদের লাল পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
একাধিক উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা ইতোমধ্যে নতুন সাধারণ পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা এড়াতেই মূলত তারা আগেভাগে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।