{{ news.section.title }}
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিপুল সমর্থন, জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারের সম্মতি
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক ইনকিলাব একটি বিস্তৃত জনমত জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে দেশের বড় একটি অংশ ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জরিপটি মূলত শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি জানার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৫২টি সংসদীয় আসনের সাধারণ ভোটার এবং আটটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৬৯ জন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৮৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৭৯ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, ১ হাজার ৪৯৪ জন বা প্রায় ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ ভোটার গণভোটের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া প্রায় ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী কোনো নির্দিষ্ট মতামত প্রকাশ করেননি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা অনেকেই গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ গণভোটের মূল প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আংশিক ধারণা রাখেন। সরকারি প্রচারণার মাধ্যমে তারা গণভোট সম্পর্কে জানতে পারলেও, সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত বিষয়ে তাদের জ্ঞান সীমিত।
এই গণভোটের আওতায় রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণসহ বিভিন্ন মৌলিক সংস্কার। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জরিপ পরবর্তী বিশ্লেষণে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ে বলে তাদের অভিমত। এ কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতিকে আরও কার্যকর ভূমিকা দেওয়া জরুরি। এতে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার প্রস্তাব তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে যে একচেটিয়া প্রভাব ও স্থবিরতা তৈরি হয়, তা প্রতিরোধে এই বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন। তাদের ধারণা, এতে রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়বে।
আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রস্তাব নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে অভিজ্ঞ নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, আনুপাতিক পদ্ধতি চালু হলে ছোট ও বড় সব দলের জনসমর্থনের প্রতিফলন সংসদে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
সার্বিকভাবে দৈনিক ইনকিলাবের এই জনমত জরিপ শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের মানুষের একটি সংস্কারমুখী ও গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক সমর্থন হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।