{{ news.section.title }}
এনআইডি সংশোধন নিয়মে বড়ো পরিবর্তন এনেছে ইসি
বাংলাদেশিদের কাছে এনআইডি সংশোধন এক ভয়াবহ যুদ্ধের নাম। নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সময়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ এনআইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করে থাকে যা সংশোধিত হতে লেগে যায় মাসের পর মাস।
এই দূর্ভোগ কমাতে নতুন সিদ্ধান্তে এসেছে ইসি। গত ডিসেম্বরে জারি করা সিস্টেম, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের পরিবর্তে সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে সম্প্রতি এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইসি’র লিখিতি এই আদেশে উল্লেখ করা হয়, নতুন জারি হওয়া এসওপি অনুযায়ী, জন্ম তারিখ বা জন্ম তারিখসহ অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের আবেদনগুলোকে এখন থেকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে গণ্য করা হবে।
উল্লেখ্য, পূর্বে এসকল আবেদনগুলো মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক, খ বা গ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে নিজস্ব ক্ষমতা বলে নিষ্পত্তি করতে পারতেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এসওপি জারি হওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ গত ২৪ ডিসেম্বরের আগে যে আবেদনগুলো মাঠ পর্যায়ে জমা পড়েছিল, সেগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে।
এখন থেকে এনআইডি উইংয়ের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর তা সরাসরি মহাপরিচালক বরাবর উপস্থাপনের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন।
কার্য সম্পাদনের জন্য কঠোরভাবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত পূর্বের আবেদনগুলো, যা আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায়, বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
ইসি আরও জানায়, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।