{{ news.section.title }}
ফ্যামিলি কার্ড কী, কীভাবে মিলবে-আবেদনের নিয়ম ও সুবিধা জানুন
দেশের নিম্নআয়ের মানুষ, কর্মহীন নাগরিক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর সহায়তায় নতুন একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এই উদ্যোগকে বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় কল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর অধীনে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যার পরিমাণ প্রচলিত অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কী ?
ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি ডেটাবেসভিত্তিক বিশেষ পরিচয়ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির অর্থ পরিবারের নারী প্রধান বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবার উপকৃত হবে, অন্যদিকে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নও বাড়বে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশের অর্ধেকের বেশি উপযুক্ত পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান সুবিধা
ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার তুলনায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে। পাশাপাশি সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারীর হাতে পৌঁছানোয় পারিবারিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
এছাড়া দ্রুত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর আগেই কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকল্পটি বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন ?
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রথমে একটি উপকমিটি চূড়ান্ত নীতিমালা ও ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর পাইলট প্রকল্প চালু হলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সফলভাবে কার্যক্রম চালু হলে তা ধীরে ধীরে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে। তখন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন আবেদন সুবিধা
ডিজিটাল ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা করছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে, যাতে যোগ্য পরিবারগুলো সহজেই নিবন্ধন করতে পারে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপ চালু হলে ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অনলাইন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্বস্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।