{{ news.section.title }}
স্পিকার ও চিপ হুইপ পদে যে পাঁচ জন আলোচনায় আছেন
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে প্রথম নির্বাচন, ভোটাধিকার প্রদানের সুযোগ পাওয়া জেন-জি’দের প্রথম নির্বাচন, কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হওয়া প্রথম নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। পার্টির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গঠন করেছেন ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ।
দেশবাসী অপেক্ষায় আছে কখন সংসদে অধিবেশন বসবে, কে হবে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সরকার দলীয় চিপ হুইপ হবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ই মার্চ। আর এই অধিবেশনেই নির্বাচন করা হবে আগামীর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।
স্পিকার পদে আলোচনায় আছেন যারা: বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি সুত্র জানিয়েছে এই পদে আলোচনায় আছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। নরসিংদী-২ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এই প্রবীণ নেতাকে দলের সবচেয়ে ক্লিন ইমেজের নেতা ধরা হয়। স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।
এরপরেই আলোচনায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন। জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বিএনপির একাধিক সুত্র জানিয়েছে এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার পরিকল্পনা চলছে।
ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যারা: বিএনপির একাধিক সুত্র বলছে আলোচনায় আছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তিনজনই দলের ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং আন্দালিব রহমান পার্থর নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদের সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।
সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে আলোচনায় রয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বারের সংসদ সদস্য এবং নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলু পাঁচবারের সংসদ সদস্য; ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালি বিধি প্রয়োগ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক জ্ঞান ও প্রশাসনিক দক্ষতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। সেই সাথে আগামীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকার পদে কেও থাকা জরুরি। স্পিকার পদের শুন্যতা থাকায় সরকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারবেনা।