{{ news.section.title }}
শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় এক ছাতার নিচে, সমন্বিত কাঠামোর ঘোষণা
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশাসনিক বিভাজন দূর করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষাবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে গতি আসে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা-সব বিভাগকে একই প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এনে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে এবং দীর্ঘসূত্রিতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় কাজ করে আসছে। ফলে অনেক সময় নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগও অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতিতে এগিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর শিক্ষা খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে। অতীতে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দুই মন্ত্রণালয় আলাদা থাকার কারণে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক বিভাজনের কারণে তা এগোয়নি।
তিনি আরও জানান, অতীতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের চিন্তা ছিল। কিন্তু আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পায়নি।
বর্তমানে দুটি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ দ্রুত হচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, দুটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম একত্রে পরিচালিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়তে পারে। এতে পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষার ধাপগুলো আরও সুসংগঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করা গেলে শিক্ষা সংস্কারের পথ সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অনেক উদ্যোগ-যেমন পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ-এবার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কাঠামোগত পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; কার্যকর পরিকল্পনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যদি এই সমন্বিত ব্যবস্থা সফল হয়, তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।