{{ news.section.title }}
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ জানালেন ইসি
রমজান মাস শেষ হওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং উপ-নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার পর বড় পরিসরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা ভাবছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রিপোর্টারস ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি মাছউদ বলেন, “আমরা আশা করছি রমজান মাসের পরপরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। তার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-নির্বাচন রয়েছে, যেগুলোর তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনগুলো একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবং সারা বছর কিংবা তারও বেশি সময় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হতে পারে। ফলে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনগত প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়-সব দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। তবে নির্বাচনী আইন প্রণয়ন করার এখতিয়ার সংসদের। “সংসদ যে আইন করবে, সেই আইন মেনেই নির্বাচন কমিশন কাজ করবে। কমিশনের কাজ হলো সেই আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া,” বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ইসি জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের। সংসদ যদি দলীয় প্রতীক রাখার পক্ষে আইন প্রণয়ন করে, তবে সে অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করা হবে। আর যদি পরিবর্তন আনা হয়, তবে সেটিও কমিশন বাস্তবায়ন করবে। বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে ইসি মাছউদ বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতির বিষয় কমিশন খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, ভোটার উপস্থিতি, প্রার্থীদের আচরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ধরন-এসব বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি নগরবাসীর দৈনন্দিন সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রমজানের পর নির্বাচন আয়োজন করলে আবহাওয়া ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় তা তুলনামূলকভাবে উপযোগী হতে পারে। একই সঙ্গে ঈদের পর রাজনৈতিক পরিবেশও কিছুটা স্থিতিশীল থাকে, যা নির্বাচনী প্রচার ও ভোটগ্রহণে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নানা সময় সমালোচনা উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে ইসি মাছউদ সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। তবে তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদনই জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে চায়। নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঠপর্যায়ের অনেক তথ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমেই দ্রুত কমিশনের নজরে আসে।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সিটি করপোরেশনগুলোতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্র নির্ধারণ, ইভিএম বা ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা-এসব বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে রমজানের পর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন সংসদীয় সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং কমিশনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।