{{ news.section.title }}
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও অস্থিরতা। সপ্তাহ শেষ না হতেই দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভরিতে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম বাড়ানো হয়েছে ১১৬ টাকা। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেল।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা।
একই দিনে দুইবার সমন্বয়, বাজারে চাঞ্চল্য
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই দিন সকালে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। অর্থাৎ সকাল থেকে রাত-এক দিনের ব্যবধানে মোট বৃদ্ধি দাঁড়াল ৭ হাজার ৬৪০ টাকা (৪,৩৭৪ + ৩,২৬৬ টাকা)।
সকালের নির্ধারিত দামে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা। সেই তুলনায় রাতের ঘোষণায় আবারও বাড়তি চাপ পড়েছে ক্রেতাদের ওপর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে কত ছিল?
গত সপ্তাহের শুরুতে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৬১ থেকে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার মধ্যে (সাম্প্রতিক সমন্বয়ের আগে)। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বিয়ে মৌসুম সামনে রেখে যারা গহনা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন বাড়তি দামের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক জুয়েলারি দোকানে দেখা গেছে, ক্রেতারা পুরনো দামে বুকিং দিতে না পারায় নতুন করে হিসাব কষছেন।
ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে কত দাঁড়াবে?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকার সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে একটি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার চূড়ান্ত মূল্য আরও ২৫–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে (ডিজাইনভেদে আরও বেশি হতে পারে)।
ফলে বাস্তবে একজন ক্রেতাকে এক ভরি গহনা কিনতে প্রায় ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি ব্যয় করতে হতে পারে।
চলতি বছরে কতবার বাড়ল দাম?
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ দফা দাম বেড়েছে এবং ১২ দফা কমেছে। অর্থাৎ বাড়ানোর প্রবণতাই বেশি।
আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট-স্বর্ণবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেন। ফলে চাহিদা বাড়ে এবং দামও বাড়ে। বাংলাদেশে সেই প্রভাব সরাসরি পড়ে আমদানি নির্ভর বাজারে।
রুপার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকায়। ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল।
সামনে কী হতে পারে?
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও দুর্বল হয়, তাহলে দেশে আবারও দাম বাড়তে পারে। তবে বিশ্ববাজারে সামান্য সংশোধন এলেও দেশে দাম কমার সম্ভাবনা থাকে-যদিও তা সাধারণত তুলনামূলক কম হারে।
ক্রেতাদের জন্য এখন বড় প্রশ্ন-এখন কিনবেন, নাকি অপেক্ষা করবেন? অনেকেই মনে করছেন, দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আরও দেরি করলে খরচ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ আশা করছেন, কয়েক দফা বৃদ্ধির পর বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতা আসতে পারে।
সব মিলিয়ে স্বর্ণের বাজার এখন উত্তপ্ত। সপ্তাহজুড়ে দুই দফা বড় বৃদ্ধি, বছরের শুরু থেকেই ঘন ঘন সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব-সব মিলিয়ে স্বর্ণ যেন আবারও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য।