{{ news.section.title }}
ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় জামায়াতের যে ৩ নেতা
বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংসদের মর্যাদাপূর্ণ এই পদকে ঘিরে ইতোমধ্যে জামায়াতের তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন জামায়াতের একজন নায়েবে আমির এবং দুজন আইনজীবী সংসদ সদস্য। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরপরই বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। জুলাই জাতীয় সনদে এ ধরনের অঙ্গীকার থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কয়েক সপ্তাহ নীরবতার পর সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি প্রকাশ্যে তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সেই সনদের বাস্তবায়ন শুরু করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সরাসরি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করে এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন।
উচ্চকক্ষ গঠনের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, সেটি আলোচনার বিষয়। তবে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব এখনই করা সম্ভব। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—দুই পদই নিতে পারে, তবু জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা। সেই ‘গুড উইল’ থেকেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আব্দুল হালিম বলেন, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব নাম ঘুরছে, সেগুলো দলীয়ভাবে নিশ্চিত নয়। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জামায়াতের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং পেশায় আইনজীবী। নিজামীর যুদ্ধাপরাধ মামলাসহ মওলানা আব্দুস সুবহানের মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অতীতে পাবনা-১ আসন থেকে শামসুল হক টুকু ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন; এর আগে একই আসন থেকে মন্ত্রী ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় মোমেনকে সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী তার পিতা মীর কাসেম আলীর মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার ঘটনাও তাকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে, যা দলের একাংশের সহানুভূতি তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন নজর জামায়াতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।