{{ news.section.title }}
হঠাৎ কেনো স্থগিত তারেক রহমানের সফর?
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার ঢাকার বাইরে সফর হিসেবে বগুড়ায় যাওয়ার যে কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছিল, তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সফরটি বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
নির্বাচন আচরণবিধি নিয়ে সতর্কতা
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময়ে সরকারি বা রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি-বিশেষ করে সামাজিক সহায়তা বা বিতরণ কার্যক্রম-পরিচালিত হলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে এবং আইনগত জটিলতা না বাড়াতে নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, “উপনির্বাচনের সময় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি পালন করলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তাই বিধি মেনে চলার অংশ হিসেবেই সফর স্থগিত করা হয়েছে।”
একই কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূল বার্তা-উপনির্বাচনের পরিবেশ যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্যই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি কী ছিল?
বগুড়ায় যে কর্মসূচিটি হওয়ার কথা ছিল, সেটি ছিল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন। সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই ছিল প্রথম বড় সফর-ফলে রাজনৈতিকভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে কর্মসূচিটির তাৎপর্যও ছিল বাড়তি।
আগে যা বলা হয়েছিল
এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজ এলাকায় সফরকালে জানিয়েছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ বগুড়ায় আসবেন। সেই ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে উপনির্বাচনের তফসিল সামনে আসায় শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি স্থগিত হলো।
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, একজন প্রার্থী একাধিক আসনে জয়ী হলে শপথ নেওয়ার আগে তাকে একটি আসন ধরে রেখে অন্যটি ছেড়ে দিতে হয়। সে অনুযায়ী তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন ছেড়ে দেন। পরে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
এ অবস্থায় বগুড়া-৬ আসন এখন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এটি একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য নির্বাচিত আসন ছিল, অন্যদিকে বড় দলগুলোর শক্তিমত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও এটি আলোচনায়।
প্রার্থী ও মনোনয়ন জমা
উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ২ মার্চ দুপুরে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল-আমিন তালুকদার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মনোনয়ন জমার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি পালনের বিষয়টি এখন স্থানীয় রাজনীতির মূল আলোচনায় উঠে এসেছে। এ সময় কোনো বড় সরকারি সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি হলে তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা থাকে-রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এমনটাই মনে করছেন। তাই সফর স্থগিতকে অনেকেই “ঝুঁকি এড়িয়ে চলার কৌশল” হিসেবে দেখছেন।
বগুড়ায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
সফর স্থগিত হলেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বাতিল হয়নি-এমন ইঙ্গিতই মিলেছে প্রশাসনের বক্তব্যে। জেলা প্রশাসন বলছে, পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে। অর্থাৎ উপনির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে কর্মসূচি নির্ধারণ হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে বগুড়ায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশের অনুমতি-এসব বিষয় আরও সক্রিয়ভাবে সামনে আসবে।
রাজনীতিতে এমন সিদ্ধান্তের আরেকটি তাৎপর্যও আছে। উপনির্বাচনী এলাকায় সরকারপ্রধানের সফর বা রাষ্ট্রীয় সুবিধা বিতরণকে অনেক সময়ই “ইলেকশন অ্যাডভান্টেজ” হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। সফর স্থগিত হওয়ায় অন্তত আচরণবিধি নিয়ে বড় বিতর্ক এড়ানো গেল-এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে।
সব মিলিয়ে, বগুড়া সফর স্থগিতের সিদ্ধান্তটি উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক সতর্কতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ-দুই দিক থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে ৯ এপ্রিলের উপনির্বাচনে এবং নির্বাচন শেষ হলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির নতুন সূচি কবে ঘোষণা করা হয়-সেদিকেও।