ক্রমাগত বাড়ছে সোনার মূল্য, আজকের বাজারদর কত?

ক্রমাগত বাড়ছে সোনার মূল্য, আজকের বাজারদর কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ভরিতে ৩,৩২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। আজ বুধবার (৪ মার্চ) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ওই নতুন দরেই-অর্থাৎ একদিন আগের সমন্বয়ের পর আজও বাজারে একই দামে লেনদেন চলছে।

বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)–এর দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, ডলার–রেটের চাপ এবং পিওর গোল্ডের দাম ওঠানামা-সব মিলিয়ে দেশীয় বাজারে দাম সমন্বয়ের প্রবণতা বেড়েছে।

আজকের স্বর্ণের দাম (বুধবার, ৪ মার্চ)

বাজুস নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম-

  • ২২ ক্যারেট: ২,৭৭,৪২৮ টাকা
  • ২১ ক্যারেট: ২,৬৪,৭৭৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: ২,২৬,৯৮১ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: ১,৮৫,৭৪৯ টাকা

গতকালের দাম (সোমবারের সমন্বয় অনুযায়ী-পূর্বের কার্যকর দর)

গত দফায় (২ মার্চের সমন্বয়ে) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২,৭৪,১০৪ টাকা/ভরি। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২,৬১,৬৮২, ১৮ ক্যারেট ২,২৪,২৯৯ এবং সনাতন পদ্ধতি ১,৮৩,৫৩৩ টাকা/ভরি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি হয়েছে-

  • ২২ ক্যারেটে ৩,৩২৪ টাকা বৃদ্ধি
  • ২১ ক্যারেটে ৩,০৯১ টাকা বৃদ্ধি
  • ১৮ ক্যারেটে ২,৬৮২ টাকা বৃদ্ধি
  • সনাতন পদ্ধতিতে ২,২১৬ টাকা বৃদ্ধি

রুপার দাম অপরিবর্তিত

স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে রুপার দাম-

  • ২২ ক্যারেট: ৭,১৭৩ টাকা/ভরি
  • ২১ ক্যারেট: ৬,৮৮২ টাকা/ভরি
  • ১৮ ক্যারেট: ৫,৮৯০ টাকা/ভরি
  • সনাতন: ৪,৪৩২ টাকা/ভরি

ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: দোকানে গিয়ে দাম কেন বেশি মনে হতে পারে

বাজুসের নির্ধারিত দামের সঙ্গে স্বর্ণের গয়না কেনার সময় সাধারণত ৫% ভ্যাট ও সর্বোচ্চ ৬% পর্যন্ত মজুরি/লেবার চার্জ যোগ হয়। ফলে শোরুমে গিয়ে এক ভরি ২২ ক্যারেটের মোট বিল ঘোষিত দামের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পড়তে পারে-বিশেষ করে ডিজাইন/মেকিং জটিল হলে।

কেন বাড়ছে দাম-দেশীয় কারণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারও প্রভাব ফেলছে

বাজুস যেহেতু সরাসরি বলেছে “তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়েছে”, তাই স্থানীয় বাজারের কাঁচামাল/রিফাইন্ড গোল্ড কস্ট বড় কারণ। তবে একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের ওঠানামা চলছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ–উত্তেজনা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে-ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ একদিনে ১%–এর বেশি ওঠার ঘটনাও দেখা গেছে (যদিও ডলার শক্ত হলে মাঝে মাঝে স্বর্ণে প্রফিট-টেকিংও হয়)।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব বৈশ্বিক ফ্যাক্টরের সঙ্গে যোগ হয়-

  • আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যয়/ঝুঁকি
  • স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের কস্ট
  • উৎসব/বিয়ে মৌসুমে চাহিদা
  • ব্যবসায়ীদের স্টক ও ডেলিভারি কস্ট

এ কারণেই অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজার সামান্য নড়লেও দেশে দ্রুত সমন্বয় দেখা যায়।

কতবার সমন্বয়-দামের গতি বোঝায় কেন?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সমন্বয় এখন ঘন ঘন হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ বছর (২০২৬) স্বর্ণের দাম বহুবার সমন্বয় হয়েছে-কখনো বাড়ানো, কখনো কমানো-যা বাজারের ভোলাটিলিটি (দ্রুত ওঠানামা) বুঝিয়ে দেয়।
এদিকে ঢাকার বাজারে স্বর্ণের দাম দীর্ঘমেয়াদে কত দ্রুত বেড়েছে, তা নিয়েও সম্প্রতি বিশ্লেষণ প্রকাশ হয়েছে-যেখানে ২০০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বড় উল্লম্ফনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বাজারে প্রভাব: গয়না কেনা কমবে নাকি বিনিয়োগ বাড়বে?

দাম বাড়লে সাধারণত দুটি প্রবণতা দেখা যায়

  • গয়না ক্রেতা কিছুটা “অপেক্ষা” করেন (দাম স্থিতিশীল হবে কি না দেখতে)
  • কিছু বিনিয়োগকারী/সঞ্চয়কারীর আগ্রহ বাড়ে (কারণ তারা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে ধরে নেন)

ঢাকার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণে একই ধরনের “বায়ার–সেলার” মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলেও রিপোর্ট হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ