নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগেই জানিয়েছিলেন, রোববার (৮ মার্চ) থেকে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রির এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

পরীবাগ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সংকট এড়াতে আগাম নিয়ন্ত্রণ জরুরি এবং এ বিষয়ে পাম্পগুলোকে লিখিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তবে রেশনিং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই রাজধানীর একাধিক এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল সীমিত করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না, আবার অনেক পাম্পে জ্বালানি নিতে ভোর থেকে দেখা গেছে দীর্ঘ সারি ও অতিরিক্ত চাপ। বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে-এমন শঙ্কা, গুজব, আর আগাম মজুত করার প্রবণতা মিলিয়ে পাম্পে ভিড় বেড়েছে।

সরকার বলছে, তাৎক্ষণিক সংকট নেই, কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যে “সুশৃঙ্খল বণ্টন” নিশ্চিত করাই রেশনিংয়ের লক্ষ্য। এ কারণেই মোবাইল কোর্ট নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, রোববার থেকেই মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট থাকবে; কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত-তাই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে; তবে পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং নির্ধারিত সময়ে আরও জ্বালানি বহনকারী ভেসেল আসছে বলেও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, প্রতিদিন পাম্পগুলোকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কোনো পাম্প যদি দ্রুত সব বিক্রি করে ফেলে, তাহলে সেদিন আর বাড়তি তেল পাওয়ার সুযোগ থাকে না-পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে কোথাও বিক্রি “হঠাৎ থেমে যাচ্ছে” মনে হলেও সেটি ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার মনিটরিং জোরদার করছে যাতে গ্রাহক হয়রানি কমে এবং অনিয়ম ঠেকানো যায়।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, রেশনিংয়ের আওতায় যানবাহনভেদে দৈনিক সর্বোচ্চ জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী-

  • মোটরসাইকেল: দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল/অকটেন
  • ব্যক্তিগত গাড়ি: দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রল/অকটেন
  • এসইউভি/জিপ ও মাইক্রোবাস: দিনে ২০–২৫ লিটার পেট্রল/অকটেন
  • পিকআপ/লোকাল বাস: দিনে ৭০–৮০ লিটার ডিজেল
  • দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/কনটেইনার ট্রাক: দিনে ২০০–২২০ লিটার ডিজেল

নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো-একদিকে জরুরি সেবা ও গণপরিবহন সচল রাখা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অতিরিক্ত মজুত বা কালোবাজারির সুযোগ কমানো। জ্বালানি বাজারে সাধারণত ভয়-ভিত্তিক কেনাকাটা (panic buying) শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই পাম্পে চাপ বাড়ে, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সরকার এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণে যেতে চাচ্ছে।

ভোক্তা পর্যায়ে করণীয় হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন-অপ্রয়োজনে বারবার পাম্পে না যাওয়া, যানবাহনের নিয়মিত মেইনটেন্যান্স রাখা, একই রুটে অযথা চলাচল কমানো এবং গণপরিবহন/রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করলে চাপ কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি, কারও কাছে তেল মজুত করে রাখার প্রবণতা বাড়লে সেটি নিজের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ (আগুন/দুর্ঘটনা), আবার বাজারেও সংকটের গুজবকে উসকে দেয়।

সরকারি পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে-রেশনিং সঙ্কটের ঘোষণা নয়, বরং যুদ্ধ-অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা। তবুও মাঠ পর্যায়ে বাস্তব প্রয়োগে যদি ভোগান্তি, অতিরিক্ত চার্জ, বা নিয়মবহির্ভূত সীমা চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে-তাহলে মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং টিমের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ