ইউক্রেনের জনগণ জেলেনস্কিকে ঘৃণা করেন, দাবি ইলন মাস্কের

ইউক্রেনের জনগণ জেলেনস্কিকে ঘৃণা করেন, দাবি ইলন মাস্কের
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, ইউক্রেনের জনগণ জেলেনস্কিকে ঘৃণা করেন এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা থেকে জেলেনস্কিকে বাদ দেওয়ার অধিকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আছে।

মাস্কের এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন হোয়াইট হাউস জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর করতে আহ্বান জানাচ্ছে। মাস্ক, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, ট্রাম্প প্রশাসনে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন।

এক্স পোস্টে মাস্ক জেলেনস্কিকে নিয়ে লিখেন, ‘জেলেনস্কি জানেন, ইউক্রেনের সব গণমাধ্যম তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যাপক ভোটে হেরে যাবেন। তাই তিনি নির্বাচন বাতিল করেছেন। বাস্তবে ইউক্রেনের জনগণ তাঁকে ঘৃণা করেন।’ মাস্কের এই বক্তব্য ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মন্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়, যিনি দাবি করেছেন জেলেনস্কির জনসমর্থন কম এবং ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) মাস্ক ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা করেন। তাঁর এই ইস্যুতে গভীর সহানুভূতি আছে।’

২০১৯ সালে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন জেলেনস্কি। তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি করা হয়, যার কারণে পরবর্তী নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

মাস্ক আরও দাবি করেন, এক্স প্ল্যাটফর্মের ‘কমিউনিটি নোটস’ ফিচারটি জেলেনস্কির পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য অপব্যবহার করা হচ্ছে। এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের ভুয়া তথ্য বা সংবাদের বিষয়ে সতর্ক করতে সাহায্য করে। মাস্ক এক্স পোস্টে লিখেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বিভিন্ন সরকার এবং প্রথাগত গণমাধ্যম কমিউনিটি নোটস নিয়ে খেলছে। এটি ঠিক করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জেলেনস্কির জনসমর্থন নিয়ে তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রিত জরিপ বিশ্বাসযোগ্য নয়। বাস্তবে ইউক্রেনের জনগণ তাঁকে ঘৃণা করেন, এবং এ কারণেই তিনি নির্বাচনের আয়োজন করতে রাজি হননি।’

গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের আকস্মিক ফোনালাপের পর জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার একটি চুক্তিও জেলেনস্কি প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত তিন বছরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এবং ট্রাম্প এখন এর বিনিময় চাইছেন।

মাস্কের এই বক্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাস্কের মন্তব্য ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে।

ইলন মাস্কের এই বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে মাস্কের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন মন্তব্য করার অধিকার আছে কিনা। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও মাস্কের সমর্থকরা এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনায় ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতা আরও গভীর হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।


সম্পর্কিত নিউজ