আমেরিকার জরিপে এগিয়ে বিএনপি; জামায়াতের অবস্থান কততম?

আমেরিকার জরিপে এগিয়ে বিএনপি; জামায়াতের অবস্থান কততম?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Muhammad Qutayba

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের রাজনৈতিক অভিমত নিয়ে মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সর্বশেষ জরিপে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ভোটার সমর্থনের চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে বলা হয়েছে, এখনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ভোট দেবেন ৩০ শতাংশ ভোটার এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানাবেন ২৬ শতাংশ ভোটার। দু’দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৪ শতাংশ হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভোটের মাঠে ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইআরআইয়ের ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫’ শিরোনামের এই জরিপে মোট ৪ হাজার ৯৮৫ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ বছর বা তার বেশি। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে; রাঙামাটি জেলা এই নমুনা কাভারেজের বাইরে ছিল। জরিপকারীদের দাবি, ৯৫ শতাংশ আস্থার সঙ্গে এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত ভুলের সীমা ধরা হয়েছে। স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিএপিআই পদ্ধতিতে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, একই পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন ৬ শতাংশ ভোটার, জাতীয় পার্টিকে ৫ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দেবেন। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলিয়ে ৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জরিপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনমতের প্রতিফলনও উঠে এসেছে। এতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আস্থা রাখছেন ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৭০ শতাংশ ভোটার। অধিকাংশ মানুষ আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জরিপ অনুসারে, ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

আইআরআই সোমবার তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই ফলাফল প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটার মনোভাব ও নির্বাচনপূর্ব গণধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ