পুতিনের রাশিয়ায় বাধ্যতামূলক বিশাল সেনা নিয়োগ শুরু

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
সেনাবাহিনীর আকার বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের এক লাখ ৬০ হাজার তরুণকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ইতিহাসে ২০১১ সালের পর বিশাল সংখ্যক মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
সেনা নিয়োগের এই কর্মসূচি এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চলমান থাকবে।
এর আগে পুতিন ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২৯ লাখ এবং সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১৫ লাখ করা উচিৎ। এরপরই এই বৃহৎ সংখ্যক নতুন সেনা নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে পুতিন।
জানা গেছে সেনা নিয়োগের সংখ্যা আগামী তিন বছরে বেড়ে এক লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়াবে।
সেনা নিয়োগের এ ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে, সংঘাত কমার এক ফুটো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) নতুন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর খেরসনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে দেশটির ৪৫ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার সেনা মোতায়েন বিভাগের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ভ্লাদিমির সিমলিয়ানস্কি বলেছেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হবে না। বরং সেজন্য ‘বিশেষ সামরিক’ বাহিনী রয়েছে।
কিন্তু যুদ্ধের প্রথম দিকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা সৈন্যদের সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধে মারা যাওয়ার এবং তাদের ইউক্রেনে পাঠানোর খবর ওঠে এসেছে ।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়নি রাশিয়া, কিন্তু ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার ব্যাপারে তারা সম্মতি জানিয়েছিলো।
খেরসনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন তারা পুতিনকে জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের বিরতিহীনভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতি বছরের বসন্ত ও শরৎকালে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রাশিয়া। তবে, সর্বশেষ ঘোষণায় যে এক লাখ ৬০ হাজার তরুণকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, তা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১০ হাজার বেশি।
এ ছাড়া গত বছরের শুরুতে যুদ্ধে যোগদানের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার বহু তরুণ সেনাবাহিনীতে যোগদানের এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা এড়াতে এখন বিকল্প বেসামরিক চাকরির চেষ্টা করছে।
এদিকে, বছরে দুইবার নিয়মিত সেনা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বাইরে রাশিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে ব্যাপক সংখ্যক যোদ্ধা এবং হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক সেনা হতাহত হওয়ার কারণে মস্কোকে নতুন সেনা নিয়োগের পথে হাঁটতে হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র বরাত জানা গেছে, ইউক্রেনে নিহত রুশ সৈন্যের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবে, ধারণা করা হচ্ছে হতাহতের আসল সংখ্যা হয়ত এর দ্বিগুন হবে।
গত ২০২২ সালে ইউক্রেন দখলের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে পুতিন ইতোমধ্যে তিনবার সামরিক বাহিনীর আকার বাড়িয়েছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং 'নেটোর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের' কথা বলেছিলো।
রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে নেটো তার জোটে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনকে যুক্ত করেছে। বিশেষ করে, ফিনল্যান্ডের সাথে রাশিয়ার এক হাজার ৩৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এটি নেটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘ সীমান্ত