ছাত্রদল নেতার হাতে লাঞ্ছিত : পদত্যাগ করছে জবির প্রক্টরিয়াল টিম

ছাত্রদল নেতার হাতে লাঞ্ছিত : পদত্যাগ করছে জবির প্রক্টরিয়াল টিম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের হাতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে প্রক্টরসহ প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের সামনে এই লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইরাল হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।  
ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাজাম্মুল হককে ঘিরে আছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রক্টরের দিকে বারবার তেড়ে যান সামসুল আরেফিন। অন্যান্য নেতারাও উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার প্রক্টরকে ধাক্কা দিতে থাকেন।

প্রক্টরকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের অন্যরা হলেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো. জাফর আহম্মেদ, শাহরিয়ার আহমেদ, মাহমুদুল হাসান খান মাহমুদ ও রবিন মিয়া শাওন। এ ছাড়াও ছাত্র অধিকারের শাখা সভাপতি একেএম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বিকেও বাকবিতণ্ডা করতে দেখা যায়।

জবি প্রক্টরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন প্রক্টর। কিন্তু যখন প্রক্টরের সঙ্গেই ছাত্রনেতারা এমন উদ্ধত আচরণ করে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। একজন শিক্ষককে এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

জবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের প্রক্টর স্যার কি আদৌ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক? যদি তাই হয়, তাহলে গতকাল তাকে ছাত্রদলের ধাক্কাধাক্কির ঘটনার পরও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ন্যূনতম প্রতিবাদটুকুও কেন এল না?’
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমরা প্রক্টরকে হেনস্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবে কাম্য নয়।

এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করছেন প্রক্টরসহ প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হেনস্তার ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন প্রক্টর তাজাম্মুল হকসহ অন্যান্য সহকারী প্রক্টররা। তবে পদত্যাগ পত্রটি এখনও উপাচার্য গ্রহণ না করায় তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী প্রক্টর বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রক্টরসহ কয়েকজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগপত্র লিখে জমাও দিয়েছেন। রোববার এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সহকারী প্রক্টর ও মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাদী হাসান জুয়েল বলেন, এটি আমি একার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। পদত্যাগ করলে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে করা হবে।

পদত্যাগের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড.  মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, আগামীকাল রোববার (৮ মার্চ) অফিস খুললে পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট করব। ছাত্রদলের হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়েও আগামীকাল রোববার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.  রেজাউল করিম বলেন, আমার কাছে এখনও কোনো পদত্যাগপত্র আসেনি। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরে সে (প্রক্টর) এ ধরনের একটা চিন্তাভাবনা করছেন, আমিও শুনেছি।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গত ৫ মার্চ ছিল মনোনয়ন ফরম তোলার দিন। সেদিন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও শিবিরপন্থি ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা এক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে হট্টগোল শুরু করে। এ সময় সেখানে জড়ো হয় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা। 


সম্পর্কিত নিউজ