বাস্তবতা আর কল্পনার দ্বন্দ্ব!- ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডারের সংকেতগুলো চিনে নিন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
মানুষের মনের জটিলতা সবসময়ই রহস্যময়। কিন্তু কখনো কখনো মস্তিষ্ক এমন একটি অবস্থায় পৌঁছে যেখানে বাস্তবতার সঠিক ব্যাখ্যা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই মনোবিজ্ঞানীরা বলে ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার (Delusional Disorder)।
ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার কি?
ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার হলো একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে ভ্রান্ত বা ভুল বিশ্বাসে বিশ্বাসী থাকে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মিলে না। এদের ধারণা সাধারণত ভূত, ষড়যন্ত্র, প্রেম, রোগ বা আত্মগৌরব সম্পর্কিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে পারে যে তার সহকর্মীরা তার প্রতি ষড়যন্ত্র করছে, অথচ বাস্তবে এমন কিছু নেই।
মানব মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বোধশক্তি অতি সূক্ষ্ম। ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডারের সময় মস্তিষ্কের তথ্য যাচাই ও যুক্তি বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব, নিউরোকেমিক্যাল অমিল, এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ এই অবস্থার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
লক্ষণ ও চিহ্ন:
ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে চিহ্নিত করা যায় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
☞ দৃঢ় ও অবিস্মরণীয় ভুল বিশ্বাস, যা যুক্তি বা প্রমাণ দ্বারা পরিবর্তন হয় না।
☞ প্রায়শই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া।
☞ বিশ্বাসের কারণে দৈনন্দিন জীবন ও সম্পর্কের ব্যাঘাত।
☞ মাঝে মাঝে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের বৃদ্ধি।
চিকিৎসা ও সমাধান:
ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। চিকিৎসায় সাধারণত ব্যবহার করা হয়:
✔ মনোবিশ্লেষণমূলক থেরাপি (Cognitive Behavioral Therapy - CBT), যা ভ্রান্ত বিশ্বাস চিহ্নিত ও সংশোধনে সহায়ক
✔ ঔষধ থেরাপি (Antipsychotic drugs), যা মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করে
✔ পরিবার ও সামাজিক সমর্থন, যা রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য মজবুত রাখতে সাহায্য করে
ডিলিউশনাল ডিজঅর্ডার সাধারণত অদৃশ্য ও চুপচাপ শুরুর দিকে মানুষকে আলাদা করে। তাই আত্মপর্যবেক্ষণ, মানসিক সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করান, ভুল বিশ্বাস থাকলে তা অপ্রয়োজনীয়ভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাড়ায়, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।