প্রাচীন ঔষধি গাছ, যা কালের প্রবাহে নেশার প্রতীক হয়ে উঠেছে-জানুন তার গোপন কাহিনি!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
তামাক গাছ বা Nicotiana tabacum প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনের অংশ। প্রথমে এটি ব্যবহৃত হত ঔষধি ও আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে, পরে ধীরে ধীরে নেশা ও সামাজিক চর্চার অংশে পরিণত হয়। আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী তামাক স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তবে এর ইতিহাস খুবই জটিল ও শিক্ষণীয়।
তামাক গাছের উৎপত্তি মূলত উত্তর ও মধ্য আমেরিকা। স্থানীয় উপজাতি ও আদিবাসীরা এটি ব্যবহার করত:
◑ ঔষধি প্রয়োজনে: হাঁপানি, ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য।
◑ আধ্যাত্মিক চর্চায়: ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতিতে ধূমপান বা ধূমজাত পাতা ব্যবহার।
◑ সামাজিক মাধ্যম: সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব বা চুক্তি চিহ্নিত করতে।
১৫ শতকের দিকে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপে তামাক পৌঁছায়। প্রথমদিকে এটি ঔষধি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। ধীরে ধীরে তামাক সিগারেট, সিগার ও পাইপ আকারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তামাকে ব্যবহারের মূল কারণ হলো এর মধ্যে থাকা নিকোটিন। এটি একটি স্নায়ুবিজ্ঞানিক পদার্থ, যা শরীরে:
⇨ সুখ বা তৃপ্তি অনুভূতি তৈরি করে
⇨ আসক্তি বা নির্ভরতা সৃষ্টি করতে পারে
⇨ দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা, ক্যান্সার এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব:
বিশ্বব্যাপী হাজার কোটি ডলারের অর্থনৈতিক শিল্প, যা বহু দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্য খরচ ও জীবনধারণে ক্ষতি এর প্রভাবও সমানভাবে বড়। ধূমপানের ফলে সামাজিক সচেতনতা বাড়লেও, সতর্ক না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা:
বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন, ধূমপান এড়ানো হলো সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এছাড়াও নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি বা চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ।
তামাক গাছের ইতিহাস আমাদেরকে দেখায়, প্রকৃতি কতোটা উপকারী হলেও ব্যবহারের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী ক্ষতিকারক হতে পারে। প্রথমে ঔষধি উদ্ভাবন হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক যুগে এটি আসক্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস আমাদের শেখায়, সচেতন ব্যবহার এবং শিক্ষার মাধ্যমে এটির ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।