বাসায় সহজেই বানান, রেস্তোরাঁর মতো চাইনিজ-মালয় ফিউশন ডিশ-নোনিয়া কুইজিন!

বাসায় সহজেই বানান, রেস্তোরাঁর মতো চাইনিজ-মালয় ফিউশন ডিশ-নোনিয়া কুইজিন!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

খাবারের জগতে কখনো কখনো তৈরি হয় এমন স্বাদের সৃষ্টি যা কেবল মুখেই নয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির কাহিনিও বলে। এমনই একটি অনন্য উদাহরণ হলো নোনিয়া কুইজিন (Nyonya Cuisine)-মালয় এবং চাইনিজ খাবারের সমন্বয়ে জন্ম নেওয়া এক বিশেষ রান্নাশৈলী। এটি কেবল স্বাদের জন্যই বিখ্যাত নয়, বরং এক জোট সংস্কৃতি ও ইতিহাসের চিহ্ন হিসেবেও বিবেচিত হয়।

নোনিয়া কুইজিনের জন্ম মূলত পেরানাকান সম্প্রদায়ের মধ্য দিয়ে। পেরানাকানরা হলো সেই সম্প্রদায় যারা চাইনিজ বংশোদ্ভূত হলেও মালয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজেদের বিশেষ একটি সংস্কৃতি ও জীবনধারা গড়ে তুলেছে। তাদের মধ্যে জন্ম নেয়া খাবারগুলোর স্বাদে প্রতিফলিত হয়-চাইনিজের মসলা ও প্রস্তুত প্রণালী এবং মালয়ের প্রাকৃতিক সুগন্ধ ও স্থানীয় উপকরণ।

নোনিয়া রান্নার নাম এসেছে "নোনিয়া" শব্দ থেকে, যা মহিলাদের সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। চাইনিজ কুলিনারি কৌশল যেমন স্টির-ফ্রাই, ডাম্পলিং ইত্যাদির সঙ্গে মালয়ের নারকেল দুধ, লেমনগ্রাস ও হালকা মশলা মিশে একটি অনন্য স্বাদ তৈরি করে।
 

বৈশিষ্ট্য:

◑ উপকরণ ও মশলা: নোনিয়া রান্নায় মালয়ীয় উপাদান যেমন লেমনগ্রাস, কফির পাতা, নারকেল দুধ এবং চাইনিজ উপকরণ যেমন সোয়া সস, ফিশ সস ব্যবহার করা হয়।

◑ রান্নার কৌশল: চাইনিজ রান্নার স্টির-ফ্রাই, বেকিং, স্টিমিং কৌশলের সঙ্গে মালয়ী মশলার সমন্বয়।

◑ স্বাদের বৈচিত্র্য: মিষ্টি, টক, ঝাল এবং সুগন্ধ—সব স্বাদ এক সঙ্গে উপস্থাপিত হয়, যা নোনিয়া কুইজিনকে অনন্য করে তোলে।

◑ প্রতীকী খাবার: চাইনিজ ও মালয় উৎসবের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত কিছু ডিশ যেমন অয় চিয়াং (Otah Otah), এনচিলাডা ধরণের ফিশ বা চিকেন কেরাবু বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

 

নোনিয়া কুইজিন কেবল খাদ্য নয়, সংস্কৃতির সংযোগ ও ইতিহাসের সাক্ষী। এটি দেখায়-কিভাবে দুই ভিন্ন সংস্কৃতি মিলে এক নতুন রান্নাশৈলী সৃষ্টি করতে পারে।

নোনিয়া খাবারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান, বিয়ের অনুষ্ঠান বা উৎসবে পরিবেশিত হয়। প্রায়শই নোনিয়া রান্না পরিবারের মা ও দাদির কাছ থেকে সন্তানদের হাতে সরাসরি শিখানো হয়, যা ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখে।

আজ নোনিয়া কুইজিন কেবল মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত। রেস্তোরাঁ ও ফুড ফেস্টিভ্যালে নোনিয়া রান্নার স্বাদকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সাংস্কৃতিক গর্ব এবং কুলিনারি উদ্ভাবনের চিহ্ন হিসেবে গণ্য।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ