নিরাপদ মহাকাশ? না, ধ্বংসের পথে আমরা! জানুন আবর্জনা পুনর্ব্যবহারের ভয়ঙ্কর কৌশল!

নিরাপদ মহাকাশ? না, ধ্বংসের পথে আমরা! জানুন আবর্জনা পুনর্ব্যবহারের ভয়ঙ্কর কৌশল!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

আধুনিক যুগে মহাকাশ গবেষণা ও অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই পৃথিবীর কক্ষপথ ভরে উঠছে অকেজো স্যাটেলাইট, রকেটের ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষে। এগুলো শুধু মহাকাশযান ও স্যাটেলাইটের জন্য নয়, নভোচারীদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এখন নজর দিয়েছেন মহাকাশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি-র দিকে। পৃথিবীতে যেমন রিসাইক্লিং আমাদের জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ, তেমনই মহাকাশেও বর্জ্যকে নতুন সম্পদে রূপান্তরের প্রয়াস চলছে।

বর্তমানে নাসা (NASA) মহাকাশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য Luna-RECYCLE Challenge চালু করেছে। এখানে লক্ষ্য হলো-মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে নভোচারীদের মল, মূত্র এবং বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহার করে ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তর করা।

◑ NASA-এর উদ্যোগ: নভোচারীদের স্বাস্থ্য, জ্বালানি উৎপাদন এবং পানীয় জল সরবরাহে নতুন প্রযুক্তি খোঁজা।

◑ চ্যালেঞ্জ: এখনো মহাকাশে মানুষের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকর কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি নেই। তাই নাসা জনসাধারণ ও গবেষকদের কাছ থেকে সৃজনশীল সমাধান আহ্বান করছে।
 

মহাকাশ আবর্জনা বা স্পেস জাঙ্ক পুনর্ব্যবহার-

বর্তমানে কক্ষপথে প্রায় ৩৬,০০০-এর বেশি বড় টুকরো এবং কোটি কোটি ছোট টুকরো ঘুরছে, যা সক্রিয় স্যাটেলাইট ও স্পেস স্টেশনের জন্য হুমকি।
 

অপসারণ প্রযুক্তি:

⇨ চুম্বক পদ্ধতি: শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে ধাতব টুকরো আকর্ষণ ও অপসারণ।

⇨ বৈদ্যুতিক প্রপালশন সিস্টেম: ছোট বর্জ্যকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরীক্ষামূলক কৌশল।

⇨ স্যাটেলাইট মনিটরিং (Astroscale): বিশেষ স্যাটেলাইট যা মহাকাশ বর্জ্যের অবস্থান ট্র্যাক করে এবং অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করে।

⇨ ClearSpace-1 (ESA-এর প্রকল্প): একটি মিশন যেখানে রোবটিক বাহু ব্যবহার করে মহাকাশের বড় টুকরো সংগ্রহ করা হবে।
 

মহাকাশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের প্রকারভেদ-

⇨ মানুষের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার: পানীয় জল পুনঃব্যবহার, বায়োগ্যাস উৎপাদন বা সার হিসেবে ব্যবহারের প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণে খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

⇨ স্পেস জাঙ্ক পুনর্ব্যবহার:অকেজো স্যাটেলাইট ও রকেটের অংশ সংগ্রহ করে নতুন যন্ত্রাংশ বা

জ্বালানিতে রূপান্তর করা। ভবিষ্যতে ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশেই নতুন কাঠামো তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 

গুরুত্ব ও সম্ভাবনা:

◑ মহাকাশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে খরচ কমবে-কারণ পৃথিবী থেকে নতুন যন্ত্রাংশ পাঠাতে আর ততটা প্রয়োজন হবে না।

◑ মহাকাশ দূষণ কমবে, ফলে নভোচারী এবং মহাকাশযান নিরাপদ থাকবে।

◑ ভবিষ্যতে মহাকাশে টেকসই বসতি স্থাপন সম্ভব হবে, যেখানে রিসোর্স তৈরি হবে মহাকাশের মধ্যেই।
 

মহাকাশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক স্তরে থাকলেও এটি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের মূল স্তম্ভ হতে যাচ্ছে। আজ যে স্যাটেলাইটের ভাঙা অংশ কিংবা নভোচারীর বর্জ্যকে আমরা ঝুঁকি ভাবছি, কাল সেটিই হয়তো রূপ নেবে নতুন জ্বালানি, খাদ্য বা যন্ত্রাংশে। পৃথিবী যেমন রিসাইক্লিং ছাড়া এগোতে পারে না, তেমনি মহাকাশও আগামী দিনে রিসাইক্লিং ছাড়া কল্পনা করা যাবে না।


সম্পর্কিত নিউজ