বিশ্বের সবচেয়ে বইপ্রেমী জাতি-অপ্রত্যাশিত নাম উঠে এলো সমীক্ষায়!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আজকের তথ্যপ্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বই পড়ার আনন্দ অনেকের কাছে অপরিহার্য। কিন্তু বিশ্বের কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি বই পড়ে? সাম্প্রতিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য, যা দেখায়-কোন জাতির মানুষ পাঠকপ্রিয় হিসেবে শীর্ষে রয়েছে এবং কেন।
পাঠ্যাভ্যাসের আন্তর্জাতিক রূপরেখা: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে কত সময় মানুষ বই পড়তে ব্যয় করে, এবং প্রতি বছর কত বই কিনে বা পড়ে—এই দুইটি সূচককে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
◑ প্রথম অবস্থান: ফিনল্যান্ড, যা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা ও পাঠ্যসংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের মডেল। ফিনিশদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বই পড়েন।
◑ উচ্চ পাঠকসংখ্যা: নরওয়ে, সুইডেন এবং জাপানও শীর্ষে। নরওয়েজিয়ান ও সুইডিশরা বছরের বিভিন্ন সময়ে গড়ে ২০–৩০ বই পড়েন।
◑ চমকপ্রদ তথ্য: দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ যেমন ভারত ও বাংলাদেশও প্রতিদিন বই পড়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, বিশেষত তরুণ সমাজে।
পাঠকপ্রিয়তার কারণ:
◑ শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা: ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনে বই পড়াকে শিশুদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা হয়।
◑ সুবিধা ও লাইব্রেরি সংস্কৃতি: দেশগুলিতে লাইব্রেরি ও অনলাইন বুক সার্ভিস খুব সহজলভ্য।
◑ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যায়ন: বই পড়াকে সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
◑ পরিবারিক অভ্যাস: শিশুকাল থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।
বৈজ্ঞানিক ও মানসিক উপকারিতা: গবেষণা দেখিয়েছে,নিয়মিত বই পড়া শুধু জ্ঞানই বাড়ায় না, মানসিক স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
◑ স্ট্রেস কমানো: ৬ মিনিট বই পড়লে স্ট্রেস প্রায় ৬০% কমে।
◑ সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: গল্প বা কল্পনার বই পড়া মনকে মুক্ত করে, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।
◑ সহানুভূতি ও সামাজিক দক্ষতা: চরিত্র ও পরিস্থিতি বোঝার মাধ্যমে মানুষ অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে শেখে।
পাঠকপ্রিয় জাতির শিক্ষণীয় দিক-
শীর্ষ দেশগুলোর অভ্যাস থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি-
☞ প্রতিদিন কিছু সময় বই পড়াকে নির্ধারিত করা।
☞ পরিবার ও স্কুল পর্যায়ে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
☞ বই ও পড়াকে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, জীবনমান ও মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে দেখা।
গবেষণায় স্পষ্ট-বিশ্বের সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় জাতি শুধু শিক্ষিত নয়, তারা জ্ঞান অর্জনকে জীবনধারার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও জাপানের মতো দেশগুলোর অভ্যাস আমাদের শিখিয়ে দেয়,পাঠ্যাভ্যাস শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বই পড়া কেবল একটি শখ নয়, বরং এটি মানসিক স্বাস্থ্য, সৃজনশীলতা এবং সমাজিক সচেতনতার চাবিকাঠি, যা যে কোনো জাতিকে জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রগতিশীল করে তুলতে পারে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।