জেলিফিশের দেহে লুকানো অমরত্বের কোড-বিজ্ঞানের এক অমীমাংসিত প্রশ্ন!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সমুদ্রের অন্ধকার নীল জলে ভেসে বেড়ানো স্বচ্ছ, জেলিফিশকে দেখে কেউ ভাবতে পারেন, এটি শুধু এক সাধারণ প্রাণী। কিন্তু প্রকৃতিতে এর উপস্থিতি এক বিস্ময়। ছোট এই প্রাণীর মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন একটি ক্ষমতা, যা বার্ধক্যকে প্রতিহত করতে পারে এবং জীবনচক্রকে পুনরায় শুরু করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা তাই একে ডেকে থাকেন "অমর প্রাণী"। কিন্তু কীভাবে সম্ভব এটি? কীভাবে একটি ক্ষুদ্র প্রাণী মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?
জেলিফিশের অমরত্বের বৈজ্ঞানিক রহস্য
বিশেষ প্রজাতি: Turritopsis dohrnii-এই প্রজাতিই সবচেয়ে আলোচিত।
১. ট্রান্সডিফারেনসিয়েশন প্রক্রিয়া: যখন পরিবেশ প্রতিকূল, শারীরিক আঘাত লাগে বা বার্ধক্য আঘাত হানতে শুরু করে, তখন এই জেলিফিশ ট্রান্সডিফারেনসিয়েশন নামে পরিচিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষগুলোকে পুনঃপ্রোগ্রাম করে।
কোষগুলো তাদের বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে আবার অপরিণত অবস্থায় ফিরে যায়, যেন জীবনের ঘড়ি উল্টে যায়।
২. অপরিণত দশায় ফিরে আসা: কোষ পুনর্গঠন হওয়ার পর জেলিফিশ ফিরে যায় পলিপ পর্যায়ে-এর অর্থ শিশুকালের অবস্থায়। পলিপ থেকে আবার নতুন প্রাপ্তবয়স্ক জেলিফিশ জন্মায় এবং জীবনচক্র নতুন করে শুরু হয়।
৩. পুনরায় জীবনচক্র শুরু: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Turritopsis dohrnii তাত্ত্বিকভাবে অসংখ্যবার মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারে। তবে, বড় মাছের আক্রমণ, রোগ বা দূষণ হলে এরা মারা যেতে পারে।
বিবর্তন ও পৃথিবীতে টিকে থাকা:
জেলিফিশ পৃথিবীতে এসেছে ৫০ কোটি বছর আগে, ডাইনোসরেরও বহু আগে। পরিবেশ পরিবর্তনশীল হলেও এরা টিকে আছে, যার অন্যতম কারণ তাদের "অমরত্ব"। পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই জেলিফিশ দেখা যায়। কিছু প্রজাতি নির্জন দ্বীপ বা দূরবর্তী সমুদ্রাঞ্চলে বিরল।
শারীরবৃত্তীয় কৌশল-
⇨ মাথা ঘোরানোর মতো ক্ষমতা নেই, তবে কোষের পুনর্গঠন এবং জীবনচক্র পুনরায় শুরু করার ক্ষমতা একে প্রাকৃতিক বিস্ময় বানিয়েছে। কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং মানবদেহেও প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।
⇨ প্রচলিত বিশ্বাস বনাম বাস্তবতা-
প্রচলিত কুসংস্কার অনুসারে, জেলিফিশকে অমর বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে তারা সর্বশক্তিমান নয়—শিকার, রোগ, দূষণ এদের জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। "অমর" বলতে বোঝায় বার্ধক্যজনিত মৃত্যু থেকে বাঁচার ক্ষমতা, যা মানব সমাজে প্রায় অতিপ্রাকৃতিক মনে হয়।
জেলিফিশ কেবল সমুদ্রের স্বচ্ছ প্রাণী নয়, এটি প্রকৃতির এক জীবন্ত বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। তাদের কোষ পুনর্জন্মের ক্ষমতা, বার্ধক্যকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল এবং জীবনচক্র পুনরায় শুরু করার অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির জটিলতা, অভিযোজনের সীমাহীনতা এবং জীবনের বিস্ময় অব্যাহত।
এরা আমাদের শিখায়, মৃত্যুকে ফাঁকি দেওয়া কেবল ফ্যান্টাসি নয়, প্রকৃতিতে এমন উদাহরণ সত্যিই আছে। বিজ্ঞান ও কৌতূহল একত্রিত হলে, হয়তো একদিন মানবদেহেও জীবনের ঘড়ি কিছুটা উল্টানো সম্ভব হবে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।