নাসি গোরেং: ইন্দোনেশিয়ার খাস স্বাদ, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা ও ঘরোয়া রেসিপি জানুন

নাসি গোরেং: ইন্দোনেশিয়ার খাস স্বাদ, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা ও ঘরোয়া রেসিপি জানুন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ভাতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রান্নার ঐতিহ্য এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশেই দেখা যায়। তার মধ্যেও ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত খাবার নাসি গোরেং আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে। এটি মূলত এক ধরনের ভাজা ভাত, তবে এর স্বাদ, মসলা ও উপকরণ ব্যবহারের ধরন একে অনন্য করেছে। আজ নাসি গোরেং শুধু ইন্দোনেশিয়ায় নয়, সারা পৃথিবীতেই জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ও রেস্টুরেন্ট ডিশে পরিণত হয়েছে।

নাসি গোরেং কী?

"নাসি" শব্দের অর্থ ভাত আর "গোরেং" মানে ভাজা। সহজভাবে বললে, এটি হলো মশলাদার ভাজা ভাত, যা সাধারণত আগের দিনের অবশিষ্ট ভাত দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে থাকে সয় সস, রসুন, পেঁয়াজ, লঙ্কা, মাংস বা সিফুড, এবং উপরে ডিম ভাজা পরিবেশন করা হয়।
 

নাসি গোরেং-এর ভিন্ন ভিন্ন ধরন:

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি অঞ্চলে নাসি গোরেং-এর স্বাদে আলাদা বৈচিত্র্য দেখা যায়—

☞ নাসি গোরেং জাভা – মিষ্টি-ঝাল মিশ্র স্বাদ।

☞ নাসি গোরেং সীফুড – চিংড়ি, স্কুইড বা মাছ দিয়ে তৈরি।

☞ নাসি গোরেং আয়াম – মুরগির মাংস যুক্ত।

☞ নাসি গোরেং কামপুং – গ্রামীণ স্টাইলে ঝাল ও দেশি মশলায় ভরপুর।

☞ নাসি গোরেং স্পেশাল – ওপরে ভাজা ডিম, চিকেন সাটে বা কুরকুরে ক্র্যাকার টপিং হিসেবে দেওয়া হয়।

 

স্বাস্থ্য উপকারিতা:

⇨ কার্বোহাইড্রেট থেকে শরীরে দ্রুত শক্তি মেলে।

⇨ ডিম, মাংস ও সীফুড প্রোটিন সরবরাহ করে।

⇨ সবজি যোগ করলে ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়।

⇨ তবে অতিরিক্ত সয় সস বা তেল ব্যবহারে ক্যালরি ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, তাই নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া উত্তম।
 

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা- 

১৯৭০-এর দশক থেকে নাসি গোরেং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আজ ইন্দোনেশিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোর মেনুতে এটি প্রধান আকর্ষণ। এমনকি CNN–এর জরিপে এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা খাবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
 

রেসিপি-

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

⇨ রান্না করা ভাত – ২ কাপ (সেরা হয় একদিন আগের ঠান্ডা ভাত)

⇨ ডিম – ২টি

⇨ মুরগি বা চিংড়ি – ½ কাপ (ইচ্ছেমতো)

⇨ পেঁয়াজ কুচি – ½ কাপ

⇨ রসুন কুচি – ২ কোয়া

⇨ গাজর ও বেল পেপার কুচি – ½ কাপ

⇨ সয় সস – ২ টেবিল চামচ

⇨ কেচাপ মানিস (মিষ্টি সয় সস) – ১ টেবিল চামচ (না থাকলে সামান্য চিনি মিশিয়ে সাধারণ সয় সস ব্যবহার করা যায়)

⇨ কাঁচা লঙ্কা – ২টি কুচি

⇨ ভাজার জন্য তেল – ৩ টেবিল চামচ

⇨ লবণ ও গোলমরিচ – পরিমাণমতো
 

রান্নার ধাপ:

কড়াই বা ওয়কে তেল গরম করে ডিম ফেটে স্ক্র্যাম্বল করে নিন, আলাদা করে রাখুন। একই কড়াইতে আবার সামান্য তেল দিয়ে রসুন ও পেঁয়াজ ভেজে নিন। মুরগি বা চিংড়ি যোগ করে ভাজুন যতক্ষণ না সেদ্ধ হয়। এবার সবজি দিয়ে নেড়ে নিন। ঠান্ডা ভাত কড়াইতে ঢেলে উচ্চ আঁচে ভালোভাবে মিশিয়ে ভাজুন। সয় সস, কেচাপ মানিস, লবণ ও গোলমরিচ যোগ করে নেড়ে দিন। শেষে স্ক্র্যাম্বল করা ডিম মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নামিয়ে নিন। উপরে ভাজা ডিম বা ফ্রাইড অনিয়ন দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
 

নাসি গোরেং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় খাবারের মর্যাদা পেয়েছে শুধু স্বাদের জন্য নয়, এর ঐতিহ্য ও বহুমুখী উপকরণের কারণে। সহজ উপকরণ দিয়ে তৈরি এই খাবার প্রতিদিনের ভাতকে নতুন রূপ দেয়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি কেবল এক পদের স্বাদ নয়, বরং ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের এক জানালা।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ