সূর্যের শক্তি এখন আমাদের আমাদের নিয়ন্ত্রণেই,ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভীতিকর ও চমকপ্রদ যাত্রা!!

সূর্যের শক্তি এখন আমাদের আমাদের নিয়ন্ত্রণেই,ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভীতিকর ও চমকপ্রদ যাত্রা!!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

সূর্যের আলো, উষ্ণতা ও শক্তি সবই আসে নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে, যেখানে হাইড্রোজেন পরমাণু মিলিত হয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন করে অপরিসীম শক্তি ছড়ায়। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা স্বপ্ন দেখছেন এই প্রক্রিয়ার মতো শক্তি পৃথিবীতে উৎপাদন করা, যাতে পরিষ্কার, সীমাহীন এবং প্রাকৃতিক শক্তির উৎস পাওয়া যায়। আধুনিক যুগে এই স্বপ্ন সত্যে পরিণত হচ্ছে ফিউশন রিঅ্যাক্টর এর মাধ্যমে। তবে প্রশ্ন হলো, বিজ্ঞানীরা কীভাবে সূর্যের আগুনকে নকল করল?

ফিউশন রিঅ্যাক্টর হল একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র যা পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখেছে। সূর্যের মতো, এখানে হাইড্রোজেন বা এর মতো হালকা পরমাণুকে চরম উষ্ণতা ও চাপের অধীনে নিয়ে এসে একত্র করা হয়। তবে সূর্যের কেন্দ্রের মতো মিলিয়ন ডিগ্রি তাপ এবং বিশাল গ্যাসের চাপ আমাদের জন্য অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা এটি নিরাপদভাবে মাগনেটিক বা লেজার কন্টেইনমেন্ট ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করে।
 

দুটি প্রধান পদ্ধতি:

১। ম্যাগনেটিক কনফাইনমেন্ট (Magnetic Confinement)- 

টোকামাক বা স্টেলারেটর: একটি বিশাল চুম্বকীয় ঘূর্ণন কক্ষের মধ্যে আয়নায়িত গ্যাস (প্লাজমা) আটকে রাখা হয়।

প্রক্রিয়া: প্লাজমার তাপমাত্রা কোটি ডিগ্রিতে পৌঁছায়, হাইড্রোজেন পরমাণু মিলিত হয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন করে, যা শক্তি হিসেবে বের হয়।
 

২। ইনর্শিয়াল কনফাইনমেন্ট (Inertial Confinement)-

লেজার ফিউশন: হাইড্রোজেনের ছোট প্যাট্রি-সাইজ ক্যাপসুলে শক্তিশালী লেজার বিন্দু করা হয়।

ফলাফল: অল্প সময়ের জন্য অত্যধিক চাপ ও তাপ তৈরি হয়, ফলে পরমাণু মিলিত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়।

 

বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ:

⇨ চরম তাপমাত্রা: কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কোন ধাতু বা পাথর স্থিতি রাখতে পারে না। তাই চুম্বকীয় বা লেজার নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

⇨ প্লাজমা স্থিতিশীলতা: আয়নায়িত গ্যাস বা প্লাজমা স্বাভাবিকভাবে বিশৃঙ্খল, তাই সেটি স্থিতিশীল রাখা কঠিন।

⇨ নেট শক্তি অর্জন: উৎপন্ন শক্তি খরচের তুলনায় বেশি হওয়া জরুরি। বিজ্ঞানীরা এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটি সম্ভব করার চেষ্টা করছেন।
 

ফিউশন রিঅ্যাক্টরের সম্ভাবনা:

⇨ পরিষ্কার শক্তি: জ্বালানী হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ শূন্য।

⇨ সীমাহীন শক্তি: সমুদ্রের জল থেকে সহজলভ্য হাইড্রোজেন।

⇨ পরিবেশবান্ধব: গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ শূন্য, জলবায়ু পরিবর্তনে সহায়ক।

⇨ ভবিষ্যতের শক্তির নিরাপত্তা: তেলের মতো সীমিত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমবে।
 

বিজ্ঞানীরা সূর্যের মতো শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। ফিউশন রিঅ্যাক্টর আমাদের দেখাচ্ছে—সুর্যের আগুনকে পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি শুধু বিজ্ঞান নয়, এটি ভবিষ্যতের পরিষ্কার, সীমাহীন এবং নিরাপদ শক্তি বিপ্লবের প্রতীক। যেমন সূর্য আমাদের দিন আলোকিত করে, তেমনি ফিউশন প্রযুক্তি পৃথিবীর শক্তি ভবিষ্যতকে আলোকিত করতে পারে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ