নীরব শত্রু এনজাইটি ডিসঅর্ডার, প্রতিরোধই একমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র

নীরব শত্রু এনজাইটি ডিসঅর্ডার, প্রতিরোধই একমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র
ছবির ক্যাপশান, নীরব শত্রু এনজাইটি ডিসঅর্ডার, প্রতিরোধই একমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা, অনিশ্চয়তা ও চাপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিস্তৃত সমস্যা হলো এনজাইটি ডিসঅর্ডার বা উদ্বেগজনিত ব্যাধি। দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা থেকে আলাদা, এটি এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবস্থা যেখানে ভয়, অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে দেয়।

এনজাইটি কীভাবে আলাদা?

সাধারণ চাপ বা উদ্বেগ আমাদের সবার জীবনে থাকে। পরীক্ষা, চাকরি, পারিবারিক সমস্যা—এসব নিয়ে সাময়িক দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন উদ্বেগের মাত্রা স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করে যায় এবং ঘুম, কাজ, সম্পর্ক কিংবা শরীরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, তখন সেটি এনজাইটি ডিসঅর্ডার-এর রূপ নেয়।

উপসর্গ: এনজাইটি ডিসঅর্ডারের উপসর্গ বিভিন্ন রকম হতে পারে, তবে প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

⇨ সবসময় অকারণ দুশ্চিন্তা বা ভয়

⇨ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা

⇨ ঘুমের সমস্যা বা দুঃস্বপ্ন

⇨ মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা

⇨ সামাজিক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা

⇨ অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব

এই উপসর্গগুলো অনেক সময় এতটাই প্রকট হয় যে, সাধারণ কাজকর্মও অসম্ভব হয়ে ওঠে।

কারণ ও প্রভাব: এনজাইটি ডিসঅর্ডারের কারণ একক নয়, বরং বহুমুখী।

⇨ জৈবিক কারণ: মস্তিষ্কে সেরোটোনিন, ডোপামিন ও নর-অ্যাড্রেনালিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হলে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

⇨ জেনেটিক প্রভাব: পরিবারে কারও এনজাইটি থাকলে অন্যদের ঝুঁকি বেশি।

⇨ পরিবেশগত কারণ: শৈশবের ট্রমা, দীর্ঘস্থায়ী চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এনজাইটির ঝুঁকি বাড়ায়।

⇨ শারীরিক প্রভাব: দীর্ঘদিনের এনজাইটি শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ বর্তমানে উদ্বেগজনিত ব্যাধিতে ভুগছেন। উন্নত প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও একাকীত্ব, কাজের চাপ ও অস্থির জীবনযাত্রা এ সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে।

প্রতিরোধ ও মোকাবিলা: যদিও এনজাইটি ডিসঅর্ডার একটি জটিল মানসিক ব্যাধি, তবে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

⇨ জীবনধারা পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

⇨ ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন: মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও মাইন্ডফুলনেস মানসিক প্রশান্তি আনে।

⇨ সামাজিক সংযোগ: বন্ধু, পরিবার বা বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ হ্রাস করে।

⇨ পেশাদার সহায়তা: কাউন্সেলিং, থেরাপি বা প্রয়োজনে ওষুধ গ্রহণ, সবই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আনে।

এনজাইটি ডিসঅর্ডার কোনো সাধারণ মানসিক চাপ নয়, বরং এটি এক ধরনের নীরব মানসিক ঝড় যা মানুষের জীবনকে ভেতর থেকে কাঁপিয়ে দেয়। কিন্তু সচেতনতা, সহানুভূতি ও সঠিক চিকিৎসা থাকলে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব। সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ট্যাবু ভাঙা, খোলামেলা আলোচনা তৈরি করা এবং চিকিৎসা সহজলভ্য করা জরুরি। কারণ মানসিক সুস্থতা ছাড়া প্রকৃত জীবনমান সম্ভব নয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ