{{ news.section.title }}
ইসির কাছে যে ৯ টি দাবী জানাল মহিলা জামায়াত
- Author, জাগরণ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সারাদেশে নারীদের উপর হওয়া সহিংসতা, হামলা, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের নেত্রীবৃন্দ।স্মারকলিপিতে ৯ দফা দাবিও জানিয়েছেন তারা।
জামায়াত ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ,কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান ,মারজিয়া এবং মহিলা বিভাগের সদস্য ডা.হাবিবা সহ আরো নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি ভোলার লালমোহনের রায়চাঁদ বাজার এলাকায় নির্বাচন প্রচারণার অংশ হিসেবে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোটার সংযোগ কার্যক্রম চালানোর সময় মৌখিক হয়রানি ও বাধার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও শারীরিক হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ১৯ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশনের চর মানিকা ইউনিয়নে এক নারী প্রচারকর্মী প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক হামলা চালানো ঠেকাতে এগিয়ে এলে তার ৯ মাসের অন্ত:সত্ত্বা কন্যাকেও পেটে লাথি মারা হয়। মা ও মেয়ে দুজনেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনাটি নির্বাচনকালীন নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এছাড়া গত ২২ জানুয়ারি নাটোর-২ (সদর) আসনে চাটনি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই নারী কর্মীদের পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ২৪ জানুয়ারি মেহেরপুরের গহরপুর গ্রামে নারী প্রচারকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তারা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হন। নারী কর্মীদের রক্ষায় এগিয়ে এলে কয়েকজন পুরুষ কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। ২৫ জানুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছার কীর্তিপুর গ্রামে নারী প্রচারকর্মীদের একটি দলের ওপর দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়। তাদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। নগদ অর্থসহ ব্যক্তিগত ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় সেখানে নারী কর্মীদের প্রচারণা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া যশোর- ৩ আসনে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, ঢাকা মহানগর কদমতলীতে, কুষ্টিয়ার ৩ আসনে, টাঙ্গাইল-২ আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, প্রচারণা কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ও হয়রানি করা হয়েছে।
এছাড়াও সারাদেশে অহরহ নির্বাচনী প্রচরণায় বাধা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন প্রচারণাকালে নারী কর্মী, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হয়রানি ও হুমকিকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান কার্যকর, নির্বাচনকালীন নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা, প্রত্যেক এলাকায় নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের জন্য বিশেষ পুলিশ টহল, মোবাইল টিম ও নিরাপত্তা প্রটোকল চালু, নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি পৃথক নারী-সংবেদনশীল হেল্পলাইন, অভিযোগ ডেস্ক ও অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত; কোনো প্রার্থীর সমর্থক বা কর্মীর দ্বারা নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দায়ী করে সতর্কতা, জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কার্যকর; নারী নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা; হিজাব, পোশাক, লিঙ্গ বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, হুমকি ও অপমানকে নির্বাচন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ; যেসব এলাকায় নারী কর্মীদের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত; নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে একটি ‘নারী-সহিংসতামুক্ত নির্বাচন’ নীতিগত ঘোষণা দিয়ে সকল প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে।