{{ news.section.title }}
শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে জামায়াত
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
নির্বাচন কে সামনে রেখে দল গুলো তাদের ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরছে । তেমনি ভাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ইশতেহারের নাম তারা দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’
মোট ২৬টি অগ্রাধিকারসূচি নিয়ে ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে।জামায়াতের দাবি, তাদের এই ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনা করে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারের অষ্টমভাগে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য (সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার) রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারে জুলাই বিপ্লব নিয়েও পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছে জামায়াত। সেখানে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরে আধুনিক ও টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া জুলাই বিপ্লবের শহীদ এবং জুলাই যোদ্ধাদের জন্য প্রতি মাসে অনুদান ও ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, জুলাই বিপ্লবে শহীদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ ও কর্মযোদ্ধা হিসেবে তাদের পুনর্বাসন করার কথা বলেছে দলটি। আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার সব খরচ সরকারি কোষাগার থেকে নির্বাহ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় গিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগে মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি বিদ্রোহের ডাক দেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে জামায়াত আমিরের এ বক্তব্য ঘিরে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ
জামায়াতকে উদ্দেশ্যে করে এ বিষয়ে বলেন, আমরা আহ্বান জানাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করুন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আপনাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদেরকে এখনও ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখে নাই, আপনারা এখন পর্যন্ত অনুতপ্ত নন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস দয়া করে আপনারা বর্ণনা করবেন না। কারণ পরীক্ষা করে দেখুন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই আপনাদের এমন রাজনীতি গ্রহণ করবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য এরপর বলেন, স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস বর্ণনা করা শুরু হয়েছে। জামায়াতের সম্মানিত আমির বলেছেন, এদেশে নাকি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন নাই; আমাদের আরেক মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি নাকি সেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সবাই এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
একইসঙ্গে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী প্রশ্ন তোলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে, এদেশের মা-বোনদের পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, যারা এদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে- তাদের মুখে কি গণতন্ত্রের ইতিহাস বর্ণনা মানায়? বিএনপির নেতা কর্মীরা জামাত কে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে দেখছে।