জামায়াত আমিরকে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

জামায়াত আমিরকে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সংসদ নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর পৃথক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তা ও বিবৃতিতে তিনি এই অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতে ইসলামী যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই সহযোগিতা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়ক হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি দেশ। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল - উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে - এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। অতীতে জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বার্তার শেষ অংশে অধ্যাপক ইউনূস মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে জামায়াত আমিরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
 


সম্পর্কিত নিউজ