{{ news.section.title }}
‘টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী’ -আমির হামজা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী’ বলে অবিহিত করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাংসদ আমির হামজা। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমুয়া’র খুতবার আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে নামাজের পূর্বে আমির হামজার দেওয়া ওই বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায় জামায়াতে ইসলামী’র সাংসদ আমির হামজা বলছেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী, তা না- তিনি ইসলামবিদ্বেষী।“
আমির হামজা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রত্যুতরে বলেন, “এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে- আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।“
ভিডিওতে জ্বালানী মন্ত্রীর ব্যর্থতার আভাসে আমির হামজাকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।“
হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসের কাছে আমির হামজার এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমপি সাহেবকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। সদর আসনের এমপি হিসেবে তিনি আসতেই পারেন।“
তিনি যোগ করেন, “মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন আমির হামজা জুমার নামাজে আসতে চান। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা শুনতে পারিনি।“
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার আমির হামজার এই মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এই তো সেদিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স।“
সাংসদকে সংযত হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে আমির হামজা এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।“
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম টুকু প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর ভিত্তি করে। ধর্ম বর্ন জাতি গোষ্ঠীর উর্ধ্বে উঠে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।“
এসময় রফিকুল আলম প্রশ্ন তুলেন যে, “উনার (আমির হামজা) কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি পাকিস্তান ইসলাম বিদ্বেষী ছিল? যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা কেবল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করেছিল?”
তিনি যোগ করেন, “প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়নি, এখানে সকল ধর্মের মানুষ সেদিন দেশকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।“
কুষ্টিয়ার সাংসদের এই মন্তব্যকে অহেতুক হিসেবে তিনি বলেন, “আমির হামজা তো কার্যত এখন আর ইসলামী বক্তা নন, উনি রাজনৈতিক নেতাও। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক বক্তাই এ জাতীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ওসব কিছু আমরা এখন আর গায়ে মাখি না।“
নিজের এই বিতর্কিত মন্তব্য বিষয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেন নি।