{{ news.section.title }}
তারাবি নামাজের নিয়ত, দোয়া, মোনাজাত ও ফজিলত
সাধারণ মুসলমানদের সুবিধার্থে তারাবি নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো-. তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম. এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে তারাবি নামাজ পড়তে হয়। তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয়।
রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নতের পর ২০ রাকাত (মতান্তরে ৮ রাকাত) সুন্নতে মুয়াক্কাদা তারাবি নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
রমজানের চাঁদ দেখা গেলে রোজার আগের রাতে এশার নামাজের পর তারাবির নামাজ আদায় করা রমজানের সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ আল-বোখারি, হাদিস : ১৯০১, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৫৯, সুনানে দারেমি : ১৮১৭, মুসনাদে আহমাদ : ৯৪৪৫, মুসনাদে হুমাইদি : ১০৩৭)
এ বিশ্রাম গ্রহণের সময় কিছু দোয়া পাঠ করতে হয়। তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয়। দুই রাকাত করে চার রাকাত পড়ার পর দোয়া পাঠ করতে হয়। এভাবে ২০ রাকাত মতান্তরে আট রাকাত দিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।
তারাবির নামাজের নিয়ত
বাংলা উচ্চারণ: "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকায়াতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতে রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতা ওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতি শারিফাতি, আল্লাহু আকবার" [১, ৬]।
অর্থ: "আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"
তারাবি নামাজের দোয়া
আমাদের দেশে তারাবি নামাজের জন্য বহুল প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে। দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষেরই তা মুখস্থ। প্রতি চার রাকাত পরপর যে দোয়াটি পড়া হয় তা হলো- سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ * سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ
উচ্চারণ : ‘সুবহা-নাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহা-নাজিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি। সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা-ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ।’
তারাবি নামাজ শেষে সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করার প্রচলন রয়েছে। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে মোনাজাত করে থাকেন। মোনাজাত সমবেত হোক আর একাকী, যে কোনো দোয়া দিয়ে তা করা যেতে পারে।
তারাবির নামাজের ফজিলত:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
গুনাহ মাফ: নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ পড়ে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় [৪]।
আল্লাহর নৈকট্য: দীর্ঘ কিয়াম ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হয় [৩]।
শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি: এটি কম-প্রভাবযুক্ত ব্যায়াম (low-impact workout) হিসেবে কাজ করে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, নমনীয়তা বাড়ায় এবং স্ট্রেস কমায় [৩]।
আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি: রমজানের আধ্যাত্মিকতা ও শৃঙ্খলা বাড়ায় [২]।
ঐক্যের প্রতীক: জামাতের সাথে পড়ার ফলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতিফলন ঘটে [৩]।
তারাবি নামাজের মোনাজাত
তারাবির শেষে বিতর নামাজ পড়ে মোনাজাতে নিজের গুনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া করা উচিত [১০, ৪]।
উচ্চারণ : ‘সুবহা-নাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহা-নাজিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি। সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা-ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ।’
তারাবি নামাজ শেষে সকলে মিলে মোনাজাত করার প্রচলন রয়েছে। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে মোনাজাত করে থাকেন। মোনাজাত সমবেত হোক আর একাকী, যে কোনো দোয়া দিয়ে তা করা যায়।তারাবি নামাজের মোনাজাতে। মনে জমানো বেদনা আল্লাহর দরবারে করুণ কণ্ঠে তূলে ধরা যায়।তবে তারাবি নামাজের দোয়ার মতো মোনাজাতের ও আরেকটি প্রচলিত দোয়া রয়েছে সেটি হলো -
اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ - اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না-নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খ-লিক্বল জান্নাতা ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া-আজিজু ইয়া-গাফফারু, ইয়া-ক্বারিমু ইয়া-সাত্তারু, ইয়া-রাহিমু ইয়া-জাব্বারু, ইয়া-খলিকু ইয়া-বারর। আল্লাহুম্মা আজিরনা-মিনান্নার। ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু। বিরহমাতিকা ইয়া-আরহামার রাহিমিন।’
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহাঅনুগ্রহের মাস। অন্য মাসের তুলনায় এ মাসের মর্যাদা অনেক গুণ বেশি। রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ২০ রাকাত তারাবির নামাজ।
তারাবি নামাজ হলো সুন্নতে মুক্কাদা যা আদায় করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় ।