{{ news.section.title }}
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
সূরা বাকারা পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। নিয়মিত এ অংশের আমল বান্দাকে নানা বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবে। জান্নাতের পথও সুগম করবে।
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬) অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই আয়াতগুলো আরবী, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ নিচে দেওয়া হলো:
আয়াত ২৮৫
আরবী:
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُউচ্চারণ: আমানার রাসুলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন; কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি, লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ; ওয়া কালু সামি'না ওয়া আত্বা'না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।
অর্থ: রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং মান্য করেছি; হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা চাই এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
আয়াত ২৮৬
আরবী:
لاَ يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَউচ্চারণ: লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস’আহা; লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত; রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখত্ব’না; রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন কাবলিনা; রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাক্বাতা লানা বিহি; ওয়া'ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা; আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
অর্থ: আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা ভালো অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং যা মন্দ উপার্জন করেছে তা তারই উপর বর্তাবে। (মুমিনগণ বলে) হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন কঠিন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! এমন বোঝা আমাদের বহন করাবেন না যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক; সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
বিশেষ ফজিলতসমূহ
এক রাতের জন্য যথেষ্ট: সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি রাতে এই আয়াত দুটি পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট (Kafatahu) হবে [১.৫.১, ১.৫.৪]। ইমাম নববী (রহ.) এর মতে এর অর্থ হলো—এটি তাকে শয়তান ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে অথবা সেই রাতের তাহাজ্জুদ নামাজের সওয়াবের সমান হবে [১.২.৭, ১.৩.৪]।
আরশের নিচের বিশেষ ভাণ্ডার: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই আয়াতগুলো আরশের নিচের বিশেষ ভাণ্ডার থেকে তাঁকে দান করা হয়েছে, যা আগে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি [১.৪.১, ১.৫.৫]।
শয়তান থেকে সুরক্ষা: যে বাড়িতে তিন রাত এই আয়াত দুটি পাঠ করা হয়, সেই বাড়িতে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না [১.২.৭, ১.৫.৬]।
দোয়া কবুল: এই আয়াতগুলোর শেষে যে প্রার্থনা বা দোয়া রয়েছে, তা আল্লাহর দরবারে সরাসরি কবুল হয় বলে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে [১.২.৫, ১.৩.৭]।
নূর বা জ্যোতি: ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) একে "নূর" বা জ্যোতি হিসেবে অবিহিত করেছেন যা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশেষ উপহার [১.৫.৩, ১.৫.৭]।
আমলের নিয়ম
১. রাতের বেলা: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়াত দুটি পাঠ করা সুন্নাহ [১.২.৪, ১.৩.৭]।
২. পরিবারকে শিক্ষা দেওয়া: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আয়াতগুলো নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের শেখানোর জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন [১.৪.১, ১.২.৩]।
৩. বিপদের সময়: কোনো কঠিন সমস্যা বা দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হলে এই আয়াতগুলো পাঠ করলে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায় [১.৩.৭, ১.২.৮]।
উৎসঃ
সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৫, ২৮৬
উপকারিতাঃ
১. হযরত আবূ মাসউদ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫০০৮–৫০১০)
২. হযরত নোমান ইবনে বশীর (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ্ তা‘আলা একটি কিতাব লিখেছেন। উক্ত কিতাব থেকে দুইটি আয়াত নাযিল করেছেন যার উপর আল্লাহ্ তা‘আলা সূরা বাকারা শেষ করেছেন। এই আয়াতদ্বয় (আয়াত দুটি) একাধারে তিন রাত্র যে ঘরে পড়া হয়, শয়তান তার নিকটেও আসেনা। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৫৭)
৩. হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, একবার জিবরাইল (আ.) নবী কারীম (ﷺ) এর নিকট বসে ছিলেন, এমন সময় আসমান থেকে কড় কড় আওয়াজ শুনা গেল। তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, আসমানের একটি দরজা খুলল যা আজকের পূর্বে কখনো খুলে নাই। এই দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরন করেছেন। এই ফিরিশতা আজকের পূর্বে কখনো জমিনে আসেন নাই। সেই ফিরিশতা খেদমতে উপস্থিত হয়ে সালাম করলেন এবং আরয করলেন, সুসংবাদ হউক, আপনাকে দুইটি নূর দেওয়া হয়েছে যা আপনার পূর্বে কোন নবীকে দেওয়া হয় নাই। একটি সূরা ফাতিহা, দ্বিতীয়টি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত। আপনি তা থেকে যেকোন বাক্য পড়বেন তা আপনাকে দেওয়া হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮০৬)
ফায়দাঃ দুই আয়াতের যথেষ্ট হওয়ার দুই অর্থ: এক এই যে, উহার পাঠকারী সেই রাত্রে সকল খারাবী থেকে নিরাপদ থাকবে। দ্বিতীয় এই যে, এই দুই আয়াত তাহাজ্জুতের স্থলে হয়ে যাবে। (ইমাম নববী )
ফায়দাঃ অর্থাৎ, যদি প্রশংসামূলক বাক্য হয়, তবে প্রশংসা করার সওয়াব পাবেন, আর যদি দু‘আর বাক্য হয় তবে দু‘আ কবূল করা হবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি রাতের বেলা এই আয়াত দুটি পাঠ করবে, তা তার সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হবে।