দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম, ফজিলত, গুরুত্ব ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ

দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম, ফজিলত, গুরুত্ব ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ
ছবির ক্যাপশান, দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম, ফজিলত, গুরুত্ব ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, MD Shafayet Ullah

দোয়া কুনুত বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলিয়ে রুকুর পূর্বে পাঠ করতে হয়। এটি আল্লাহর কাছে সাহায্য, ক্ষমা ও হেদায়েত চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি একরাতে নবী (সা.)-এর নিকটে ছিলাম। তিনি শয্যাত্যাগ করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। এরপর উঠে বিতর পড়লেন। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পর সুরা আআলা পাঠ করলেন। এরপর রুকু ও সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহা ও কাফিরূন পাঠ করলেন এবং রুকু-সিজদা করলেন। তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা ও ইখলাস পাঠ করলেন। এরপর রুকুর আগে কুনূত পড়লেন।’ (কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০১; নাসবুর রায়াহ : ২/১২৪)

বিতর নামাজের শেষ রাকাতে পঠিত দোয়া কুনুত নিচে উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো:

দোয়া কুনুত (আরবি) 

اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ - اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْا رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা, ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নু'মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা, ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর; ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা; ওয়া নাখলাউ ওয়ানাতরুকু মাইয়্যাফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুসাল্লি ওয়ানাসজুদু; ওয়া ইলাইকা নাস'আ ওয়ানাহফিদু; নারজু রহমাতাকা ওয়ানাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফ্ফারি মুলহিক্ব [১.২.২, ১.৩.১]। 

বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্য চাই, আপনারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনারই ওপর ঈমান রাখি, আপনারই ওপর ভরসা করি এবং আপনারই উত্তম প্রশংসা করি [১.১.২]। আমরা আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, অকৃতজ্ঞ হই না। যারা আপনার নাফরমানি করে, আমরা তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি ও তাদের পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদত করি, আপনারই জন্য নামাজ পড়ি ও সিজদাহ করি [১.২.৩]। আমরা আপনারই দিকে দৌড়াই ও আপনারই অনুগত হই। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই আপনার আজাব কাফেরদের জন্য নির্ধারিত [১.২.১]।

দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম

বিতর নামাজের তৃতীয় বা শেষ রাকাতে এটি পড়তে হয় [১.২.৩, ১.৩.১]। নিয়মটি হলো:
১. সুরা মিলানো: তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা বা কিছু আয়াত পাঠ করুন [১.২.৭, ১.২.১০]।
২. অতিরিক্ত তাকবির: কিরাত শেষ করে রুকুতে যাওয়ার আগে 'আল্লাহু আকবার' বলে কান পর্যন্ত দুহাত উঠান এবং পুনরায় নাভির নিচে বা বুকের ওপর হাত বাঁধুন [১.২.৫, ১.২.৭]।
৩. দোয়া পাঠ: হাত বেঁধে নিঃশব্দে বা অনুচ্চ স্বরে পুরো দোয়া কুনুত পাঠ করুন [১.২.৭, ১.৪.১]।
৪. রুকু ও সিজদাহ: দোয়া শেষ হলে পুনরায় 'আল্লাহু আকবার' বলে রুকুতে যান এবং স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করুন [১.৪.১]।

বিকল্প ব্যবস্থা: যদি কারো দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকে, তবে তিনি সাময়িকভাবে "রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া..." বা তিনবার "আল্লাহুম্মাগফিরলী" পাঠ করতে পারেন [১.৪.৫, ১.৪.১০]।

দোয়া কুনুতের ফজিলত ও গুরুত্ব

  • আল্লাহর সাহায্য লাভ: এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য, ক্ষমা এবং হেদায়েত প্রার্থনা করে, যা আল্লাহর সাথে গভীর সংযোগ তৈরি করে [১.২.১, ১.৪.১]।

  • বিপদ থেকে মুক্তি: দোয়া কুনুতে আল্লাহর আজাব থেকে পানাহ চাওয়া হয়, যা বান্দাকে দুনিয়া ও আখিরাতের বিভিন্ন বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয় [১.২.৬, ১.৪.৩]।

  • সুন্নাহর অনুসরণ: মহানবী (সা.) এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করতেন এবং তার নাতি হাসান (রা.)-কেও এটি শিক্ষা দিয়েছিলেন [১.২.২, ১.৪.১]।

  • মানসিক প্রশান্তি: বিনয় ও নম্রতার সাথে এই দোয়া পাঠ করলে মনে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুল বৃদ্ধি পায় [১.৪.১, ১.৪.৩]।


সম্পর্কিত নিউজ