{{ news.section.title }}
ঘুমানোর দোয়া বাংলা অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ
ঘুমানোর আগে পাঠ করার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সহজ দোয়াটি হলো— আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া। এর অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনারই নামে মরে যাই (ঘুমাই) আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি (জাগি)"। এটি বিছানায় শোয়ার পর ডান কাতে শুয়ে পড়া সুন্নাত।
হজরত হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ঘুমানোর আগে ডান হাত গালের নিচে রেখে বলতেন:
اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
[সূত্র: বুখারি, মুসলিম, ও মিশকাত]
ঘুমানোর দোয়া
আরবি: اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনারই নামে মরে যাই (ঘুমাই) আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি (জাগি)।
অন্যান্য আমল (ঘুমানোর আগে)
রাসূল (সা.) ঘুমানোর আগে হাত দু'টো একসাথে নিয়ে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলাতেন। এছাড়া আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারা-এর শেষ দুই আয়াত পাঠ করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
ঘুম থেকে ওঠার দোয়া
ঘুম থেকে জেগে এই দোয়াটি পড়তে হয়:
আরবি: لْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহ্ইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর পুনরায় জীবিত করলেন (জাগালেন), আর তারই নিকট সকলের পুনরুত্থান।
ঘুমানোর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল
১. অজু করা: নামাজের মতো করে অজু করে ঘুমানো সুন্নত [১.১.১, ১.১.২]।
২. বিছানা ঝাড়া: শোয়ার আগে কাপড়ের খুঁট দিয়ে বিছানা ৩ বার ঝেড়ে নেওয়া [১.১.১, ১.২.১]।
৩. ডান কাতে শোয়া: ডান কাতে শুয়ে ডান হাত গালের নিচে রাখা [১.১.১, ১.৩.৩]।
৪. তাসবিহ পাঠ: ৩৩ বার 'সুবহানাল্লাহ', ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ' এবং ৩৪ বার 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করা (এটি ফাতিমি তাসবিহ নামে পরিচিত) [১.১.১, ১.২.৯]।
৫. সূরা পাঠ ও ফুঁ দেওয়া: দুই হাত একত্রে করে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে হাত বুলানো (৩ বার) [১.১.১, ১.৩.৪, ১.৪.৭]।
ঘুমানোর আগে পড়ার বিশেষ সূরাসমূহ
আয়াতুল কুরসি: এটি পাঠ করলে সারারাত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা আপনাকে পাহারা দেবে এবং শয়তান কাছে আসতে পারবে না [১.১.২, ১.৩.১০]।
সূরা মুলক (সূরা নং ৬৭): এই সূরাটি নিয়মিত পাঠ করলে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় [১.১.১, ১.১.৩, ১.৩.৭]।
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬ নং আয়াত): রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে এই দুই আয়াত পাঠ করলে তা ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে [১.১.১, ১.২.১, ১.৪.১০]।
সূরা কাফিরুন: শিরক থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর আগে এই সূরাটি পাঠ করা সুন্নত [১.১.৪, ১.২.১]।
সূরা সাজদাহ: রাসূলুল্লাহ (সা.) সূরা মুলক ও সূরা সাজদাহ পাঠ না করে ঘুমাতেন না [১.১.৩, ১.১.৪]।
ঘুমের আরও একটি বিশেষ দোয়া
অজু করে ডান কাতে শুয়ে এই দোয়াটি পড়াও সুন্নাহসম্মত:
আরবি: اَللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ক্বিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআছু ইবাদাকা।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আজাব থেকে রক্ষা করুন যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন" [১.৩.৩, ১.৪.৮]।