{{ news.section.title }}
আস্তাগফিরুল্লার ফজিলত ও আমলসমূহ
ইস্তিগফার বা 'আস্তাগফিরুল্লাহ' (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) ইসলামের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আমল, যা কেবল গুনাহ মাফ নয় বরং দুনিয়া ও আখেরাতের অসংখ্য কল্যাণের চাবিকাঠি।
আস্তাগফিরুল্লাহ (اَسْتَغْفِرُ اللهَ) অর্থ "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই", যা জীবনের সব দুশ্চিন্তা, অভাব, ও পাপ দূর করে রহমত, রিজিক বৃদ্ধি এবং জান্নাত লাভের অন্যতম শক্তিশালী আমল [১, ৭, ১০]। এটি নিয়মিত পাঠে হৃদয় পবিত্র হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয় এবং রিজিক ও শক্তি বৃদ্ধি পায় [১, ৮, ১০]। প্রতিদিন ১০০ বার বা তার বেশি পাঠ করা সুন্নাত [১৩]।
ইস্তেগফারের দোয়া (উচ্চারণ ও অর্থ):
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: "আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়াতুবু ইলাইহি" [৩, ১২]।
অর্থ: "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নাই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন; এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি" [৩, ১২]।
ফজিলত: এই দুয়া ৩ বার পড়লে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মত পাপ হলেও মাফ হয়ে যায় [১২]।
আস্তাগফিরুল্লাহার ফজিলত (উপকারিতা):
গুনাহ মাফ: আন্তরিকভাবে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তাআলা জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন [১, ১৫]।
রিজিক ও বরকত: এটি রিজিক বৃদ্ধি করে, অভাব দূর করে এবং জীবনে বরকত নিয়ে আসে [১, ১০]।
বিপদ মুক্তি ও দুশ্চিন্তা দূর: যে কোনো কঠিন মুহূর্তে বা দুশ্চিন্তায় আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা পথ খুলে দেন এবং দুশ্চিন্তা দূর করেন [১, ৯, ১০]।
জান্নাত লাভ: প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এটি পাঠ করলে জান্নাত নসিব হয় [৬]।
সন্তান ও শক্তি লাভ: এটি সন্তান ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে [১০]।
আস্তাগফিরুল্লাহার আমলসমূহ:
সাধারণ আমল: "আস্তাগফিরুল্লাহ" (أَسْتَغْفِرُ اللهَ) - অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি [৪]।
ছোট ও দ্রুত আমল: "আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম" (أَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيمَ) - অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
সেরা ইস্তেগফার (সৈয়দুল ইস্তেগফার): এটি সকাল-সন্ধ্যায় সবচেয়ে উত্তম আমল [৭]।
নবীজী (সা.)-এর আমল: নবী করিম (সা.) দিনে ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করতেন [১৩, ১৪]।
নামাজের পর: প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করা [১২]।