{{ news.section.title }}
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সুস্থ্যতার দোয়া ও আমাদের করনীয়
অসুস্থ ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়া ও আমলসমূহ জানুন। আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও রেফারেন্সসহ দোয়াগুলো শিখতে আজই আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
আল্লাহ তাআলা অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত শেফা (সুস্থতা) দান করুন। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পড়ার বা তার কাছে গিয়ে পড়ার কয়েকটি কার্যকর দোয়া নিচে দেওয়া হলো:
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া
১. দ্রুত আরোগ্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে এই দোয়াটি পড়তেন।
আরবি: اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِবِ الْبَأسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّা شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, আপনি কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনার দেয়া আরোগ্য ছাড়া আর কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগকে অবশিষ্ট রাখে না।
২. আরোগ্য কামনায় ৭ বার পড়ার দোয়া
হাদিসে আছে, কোনো মুমূর্ষু ব্যতীত অন্য কোনো রোগীর সামনে এই দোয়াটি ৭ বার পড়লে আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করেন।
আরবি: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ: আসআলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আঁই ইয়াশফিয়াকা।
অর্থ: আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রভুর নিকট তোমার আরোগ্য প্রার্থনা করছি।
৩. নিজের অসুস্থতার জন্য দোয়া
শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা বা অসুস্থতা বোধ করলে সেখানে ডান হাত রেখে ৩ বার 'বিসমিল্লাহ' এবং ৭ বার নিচের দোয়াটি পড়া সুন্নত:
উচ্চারণ: আউজু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।
অর্থ: আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরতের মাধ্যমে আমি যা অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
৪. সার্বিক সুস্থতার জন্য দোয়া
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা যায়:
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
৫. শরীরের ব্যথার জন্য দোয়া (Dua for Pain)
শরীরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ব্যথা হলে সেখানে হাত রেখে ৩ বার 'বিসমিল্লাহ' এবং ৭ বার নিচের দোয়াটি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল (সা.) [১.৫.১, ১.৫.২]।
আরবি: أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ: আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।
সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ২২৫২), সুনানে ইবনে মাজাহ (হাদিস নং: ৩৫২২) [১.৫.২, ১.৫.৫]।
৬. রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়ার সুন্নতি বাক্য
রাসুল (সা.) অসুস্থ কাউকে দেখতে গেলে তাকে আশ্বস্ত করতে এটি বলতেন [১.১.৭]:
আরবি: لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: লা বা’সা ত্বাহুরুন ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: কোনো ভয় নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় এই অসুস্থতা গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার মাধ্যম হবে।
সূত্র: সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ৫৬৬২) [১.১.৭, ১.৪.৪]।
পরামর্শ: দোয়া পড়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুন্নতি আমল হিসেবে সূরা ফাতিহা পড়েও ফুঁ দিতে পারেন।
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আমল
অসুস্থ ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য এবং মানসিকভাবে সবল থাকার জন্য ইসলামে বেশ কিছু কার্যকরী আমল বা করণীয় বর্ণনা করা হয়েছে। দোয়ার পাশাপাশি নিচের আমলগুলো পালন করা সুন্নত:
১. সদকা (দান-খয়রাত) করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের অসুস্থদের দান-খয়রাতের মাধ্যমে চিকিৎসা করো" [১.৪.১]। অভাবী বা এতিমদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দান করা অসুস্থতা থেকে মুক্তির একটি শক্তিশালী আমল।
২. সুরা ফাতিহা ও তিন কুল-এর ঝাড়ফুঁক
সুরা ফাতিহা: একে 'সুরাতুশ শিফা' বলা হয়। অসুস্থ ব্যক্তির গায়ে এই সুরা পড়ে ফুঁ দেওয়া অত্যন্ত কার্যকর আমল [১.৫.৯]।
তিন কুল (ইখলাস, ফালাক ও নাস): রাসুল (সা.) নিজে অসুস্থ হলে এই তিন সুরা ৩ বার পড়ে নিজের দেহে হাত বুলিয়ে দিতেন [১.৪.২, ১.৪.৮]।
৩. ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর প্রশংসা
অসুস্থাবস্থায় অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা মুমিনের অন্যতম গুণ। হাদিসে আছে, অসুস্থতার কষ্ট মুমিনের গুনাহ মাফের কারণ হয় [১.১.৫, ১.১.৮]।
৪. প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ
ইসলামে অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার পরিপন্থী নয়। রাসুল (সা.) মধু, কালোজিরা ও হিজামার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন [১.৩.৪, ১.৩.৯]।
৫. জামাতে নামাজ ও জিকির (রোগীর সামর্থ্য অনুযায়ী)
অসুস্থ ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে না পারেন, তবে বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করবেন [১.৩.৮]। সুস্থ অবস্থায় তিনি যে পরিমাণ নফল ইবাদত বা আমল করতেন, অসুস্থ হওয়ার পর তা না করতে পারলেও আল্লাহ তাকে সেই পূর্ণ সওয়াব দান করেন [১.১.৫]।
৬. রোগীর দোয়া প্রার্থনা
অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মতো কবুল হয় [১.৪.৩]। তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে নিজের জন্য তার কাছে দোয়া চাওয়া একটি সুন্দর আমল।