রাতের পাহাড়াদার আয়াতুল কুরসির ফজিলত, আমল, বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

রাতের পাহাড়াদার আয়াতুল কুরসির ফজিলত, আমল, বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ
ছবির ক্যাপশান, রাতের পাহাড়াদার আয়াতুল কুরসির ফজিলত, আমল, বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, MD Shafayet Ullah

সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ এই আয়াতের ফজিলত, আমল, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ নিচে দেওয়া হলো:

আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নং আয়াত) হলো পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় ও ফজিলতপূর্ণ আয়াত, যা আল্লাহর একত্ববাদ ও ক্ষমতার বর্ণনা দেয়। এটি নিয়মিত পাঠে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং শয়তান থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায় [৮, ১২]। নিচে এর উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো: 

আয়াতুল কুরসি (বাংলা উচ্চারণ) 

আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা'খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা'উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া'লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন 'ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ'। ওয়াসি'আ কুরসিইয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা, ওয়াহুওয়াল 'আলিইয়্যুল 'আযীম। [২, ৭] 

আয়াতুল কুরসি (বাংলা অর্থ)

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর ‘কুরসি’ (সিংহাসন বা ক্ষমতা) আসমান ও জমিনকে বেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান। [৪, ৬]

সংক্ষিপ্ত তথ্য:

  • সুরা ও আয়াত: সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৫।

  • ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। 

প্রধান ফজিলতসমূহ

  • জান্নাতে প্রবেশের সহজ মাধ্যম: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না"। অর্থাৎ, মৃত্যুর পরপরই সে জান্নাতের নেয়ামত লাভের অধিকারী হবে।

  • শয়তান ও জিনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা: শোয়ার আগে এই আয়াত পাঠ করলে আল্লাহ একজন পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, ফলে সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে ঘেঁষতে পারে না। এছাড়া এটি পাঠ করলে ঘর থেকে শয়তান বিতাড়িত হয়।

  • সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত: উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে নবীজি (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন কোরআনের সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন—আয়াতুল কুরসি। নবীজি (সা.) তার এই জ্ঞানের প্রশংসা করেছিলেন।

  • আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আজম): বলা হয়ে থাকে, এই আয়াতের মধ্যে আল্লাহর সেই মহান নাম (ইসমে আজম) নিহিত আছে, যা দিয়ে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। 

দৈনন্দিন আমল ও সময়

১. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর: নিয়ম করে ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর এটি পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
২. রাতে ঘুমানোর আগে: নিরাপদ ও প্রশান্তিময় ঘুমের জন্য এবং দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচতে শোয়ার আগে এটি পাঠ করা সুন্নত।
৩. সকাল ও সন্ধ্যায়: সকালের ও সন্ধ্যার জিকিরের (আযকার) অংশ হিসেবে এটি পাঠ করলে সারাদিন ও সারারাত আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তায় থাকা যায়।
৪. ঘর থেকে বের হওয়ার সময়: বাইরে চলাফেরায় বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা পেতে বের হওয়ার সময় এটি পাঠ করা উপকারী।
৫. বিপদ বা ভয়ের সময়: কোনো কারণে ভয় পেলে বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে। 

বিশেষ তথ্য: আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর এমন কিছু গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে (যেমন: হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম—চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক), যা বান্দার ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বাড়িয়ে দেয়।


সম্পর্কিত নিউজ