তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও আমলসমূহ

তাহাজ্জুদ  নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও আমলসমূহ
ছবির ক্যাপশান, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও আমলসমূহ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, MD Shafayet Ullah

তাহাজ্জুদ নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত, যা সাধারণত রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আদায় করা হয়। নিচে এই নামাজের নিয়ম, আমলসমূহ ও নিয়ত সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো

তাহাজ্জুদ নামাজ এশার পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত, বিশেষ করে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুই রাকাত করে অন্তত ২ থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায় [৭, ১২]। নিয়ত মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা জরুরি, মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয় [২]। সাধারণত লম্বা কিরাত ও সেজদা সহকারে এই নামাজ আদায় করা উত্তম [৪]। 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত 

নামাজের জন্য মুখে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা আরবি বাক্য উচ্চারণ করা জরুরি নয়; মনের ইচ্ছা বা সংকল্পই নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়। আপনি মনে মনে এভাবে নিয়ত করতে পারেন: 

  • "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি।" 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের পদ্ধতি অন্য যেকোনো নফল বা সুন্নত নামাজের মতোই। নিচে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো দেওয়া হলো: 

  • রাকাত সংখ্যা: তাহাজ্জুদ সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৮, ১০ বা ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাত পড়তেন।

  • পদ্ধতি: দুই রাকাত দুই রাকাত করে এই নামাজ আদায় করতে হয়।

  • সুরা পাঠ: প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর কুরআন থেকে যেকোনো একটি সুরা বা আয়াত পাঠ করুন। একইভাবে দ্বিতীয় রাকাত শেষ করে তাশাহহুদ, দুরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।

  • দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সেজদা: তাহাজ্জুদে লম্বা কেরাত পাঠ করা এবং ধীরস্থিরভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে রুকু ও সেজদা করা উত্তম। 

প্রয়োজনীয় তথ্য

  • সময়: ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়। তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া সবচেয়ে উত্তম।

  • ঘুম থেকে ওঠা: সাধারণত রাতে কিছুটা ঘুমানোর পর উঠে এই নামাজ পড়া সুন্নাহ, তবে কেউ না ঘুমিয়ে শেষ রাতে পড়লে সেটিও তাহাজ্জুদ হিসেবে গণ্য হবে।

  • বিতর নামাজ: আপনি চাইলে তাহাজ্জুদ শেষ করে বিতর নামাজ আদায় করতে পারেন, অথবা এশার সাথে বিতর পড়ে থাকলে তাহাজ্জুদের পর আর বিতর পড়ার প্রয়োজন নেই।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম সেরা মাধ্যম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এই নামাজের অসংখ্য ফজিলত ও মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো: 

১. আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ 

তাহাজ্জুদ নামাজ বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছে নিয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ডাকতে থাকেন— "কে আছো যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব?"। 

২. গুনাহ মাফ ও পাপ মোচন

নবী করীম (সা.) বলেছেন, "তোমরা রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ) আঁকড়ে ধরো... এটি তোমাদের পাপ মোচনকারী এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখে"। এটি অতীতের গুনাহ মুছে ফেলার এক কার্যকর মাধ্যম। 

৩. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়

তাহাজ্জুদের সময় করা দোয়া সরাসরি কবুল হয় বলে অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর মতে, "তাহাজ্জুদের দোয়া হলো এমন এক তীরের মতো যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না"। 

৪. জান্নাত লাভের সহজ পথ

যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করেন, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা ও সুখের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, "রাতের নামাজ পড়ো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তবেই তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"। 

৫. চেহারায় নূর ও অন্তরে প্রশান্তি

তাহাজ্জুদ আদায়কারীর চেহারায় এক ধরনের বিশেষ উজ্জ্বলতা বা নূর প্রকাশ পায় এবং এটি মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে অন্তরে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়। 

৬. শারীরিক সুস্থতা

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাতের ইবাদত শরীর থেকে রোগব্যাধি দূর করতে সাহায্য করে। আধুনিক গবেষণায়ও দেখা গেছে, শেষ রাতে জেগে ইবাদত করা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। 

৭. নেককারদের অভ্যাস

তাহাজ্জুদ পড়া পূর্ববর্তী সকল নবী ও নেককার বান্দাদের চিরচায়িত অভ্যাস ছিল। এটি একজন মুমিনকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে আল্লাহর খাস বান্দাদের কাতারে শামিল করে।


সম্পর্কিত নিউজ