হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল পড়ার ফজিলত

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল পড়ার ফজিলত
ছবির ক্যাপশান, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল পড়ার ফজিলত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, MD Shafayet Ullah

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ (حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বরকতময় আয়াত (সূরা আলে ইমরান: ১৭৩)। এর মূল অর্থ হলো— “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল" (حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দো‘আ, যার অর্থ: "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, এবং তিনি সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক" [৬, ১৪]। এই জিকিরটি যে কোনো বিপদ, দুশ্চিন্তা, ভয়, শত্রুর উপদ্রব থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) বৃদ্ধির জন্য পড়া হয়। এটি মনের প্রশান্তি ও আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার নিশ্চিত মাধ্যম। 

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা: 

এই জিকিরটি পাঠ করার প্রধান ফজিলতগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. বিপদ ও শত্রু থেকে মুক্তি

  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: যখন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছিলেন।

  • শত্রুর ভয়: যুদ্ধের ময়দানে সাহাবায়ে কেরাম যখন শক্তিশালী শত্রুর সম্মুখীন হতেন, তখন তারা এই জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতেন। 

২. মানসিক প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস 

  • অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা বা ভয়ের সময় এই জিকিরটি পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

  • এটি পাঠ করলে বান্দার মনে এই বিশ্বাস জন্মে যে, দুনিয়ার সব শক্তি আল্লাহর অধীন, তাই চিন্তার কিছু নেই।

৩. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) 

  • এটি পাঠ করার মাধ্যমে একজন মুমিন ঘোষণা করে যে, তার জীবনের সব কাজের সমাধানকারী একমাত্র আল্লাহ। এই পূর্ণ নির্ভরতার কারণে আল্লাহ তার কঠিন কাজগুলো সহজ করে দেন। 

৪. সমস্যা সমাধানের আমল

  • ওয়াজিফা বা নিয়মিত পাঠ: ওলামায়ে কেরামের মতে, কোনো বিশেষ প্রয়োজনে বা জটিল সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন ৪৫০ বার এই জিকিরটি পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর।

  • সাধারণ আমল: প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করলে আধ্যাত্মিক সুরক্ষা লাভ করা যায় এবং নজর বা কালো জাদুর মতো অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকা যায় বলে অনেকে মনে করেন। 

৫. গায়েবি সাহায্য লাভ

  • যারা নিয়মিত এই জিকির করেন, তারা নিজেদের অজান্তেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য লাভ করেন। এমনকি যে কাজগুলো অসম্ভব মনে হয়, আল্লাহর ইচ্ছায় সেগুলোও সহজ হয়ে যায়। 

আমলের নিয়ম:

‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ (حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) আমল করার জন্য কোনো কঠিন শর্ত নেই, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এর বরকত দ্রুত প্রকাশ পায়। নিচে সাধারণ ও বিশেষ আমলের নিয়মগুলো দেওয়া হলো: 

১. সাধারণ নিয়ম (প্রতিদিনের জিকির)

  • সময়: এটি সকাল-সন্ধ্যা বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর যেকোনো সময় পাঠ করা যায় [১.৩.৮, ১.৪.৪]।

  • সংখ্যা: প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার পাঠ করা উত্তম। অনেক ওলামায়ে কেরাম এটি ৩১৩ বার বা ৫০০ বার পড়ার পরামর্শ দেন।

  • একাগ্রতা: পাঠ করার সময় মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আমার সকল সমস্যার সমাধানকারী একমাত্র আল্লাহ এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট [১.২.৫, ১.২.১০]। 

২. বিশেষ বিপদে বা প্রয়োজন পূরণে (ওয়াজিফা)

যদি বড় কোনো বিপদ, শত্রুভয় বা কঠিন কোনো সমস্যা থাকে, তবে নিম্নোক্ত নিয়মটি অনুসরণ করতে পারেন: 

  • ৪৫০ বার পাঠ: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে (বিশেষ করে শেষ রাতে বা এশার পর) ৪৫০ বার এই জিকিরটি পাঠ করা অত্যন্ত প্রভাবশালী আমল হিসেবে পরিচিত [১.৩.৭]।

  • দরুদ শরীফ: আমলটি শুরু করার আগে এবং শেষে ১১ বার বা ২১ বার দরুদ শরীফ পাঠ করে নেওয়া ভালো [১.২.২]।

  • সময়কাল: এভাবে টানা ৭ দিন বা ২১ দিন আমলটি চালিয়ে যেতে পারেন [১.২.২]। 

৩. মনের আশা পূরণে (৪১ বারের আমল)

  • কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়, আজানের পর এবং জামাত শুরু হওয়ার আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে ৪১ বার ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ পাঠ করলে আল্লাহ দ্রুত মনের আশা পূরণ করেন [১.২.৭]। 

৪. আমলের পূর্ণ দোয়া

অনেকে জিকিরটি আরও দীর্ঘ করে পাঠ করেন, যা বেশি সওয়াব ও শক্তিশালী: 

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল, নি'মাল মাওলা ওয়া নি'মান নাসির। [১.৩.১১, ১.৪.১]
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক; তিনিই আমাদের উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। [১.২.৪]

সতর্কতা: যেকোনো আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকা এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।


সম্পর্কিত নিউজ