{{ news.section.title }}
বদনজর থেকে বাঁচার ২টি দোয়া
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বদনজর সত্য। অর্থাৎ বদনজরের কুপ্রভাব পড়ে—এটি কোনো অমূলক বা ভিত্তিহীন ধারণা নয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, বদনজর মানুষের ক্ষতি করতে পারে। আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা বদনজরের ক্ষতি থেকে বাঁচতে আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, কারণ বদনজর সত্য। সুনানে ইবনে মাজা।
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বদনজরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত আমল ও দোয়ার মাধ্যমে এ থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করা জরুরি।
কুরআনের আয়াত পাঠ
বদনজর থেকে নিরাপদ থাকতে নিয়মিত সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫–২৮৬) পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী। এসব আয়াত আল্লাহ তাআলার হেফাজতের অন্তর্ভুক্ত করে এবং অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বদনজর ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন—
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ وَحَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ
অর্থ: আল্লাহর নামে তোমার জন্য ঝাড়ফুঁক করছি। তোমাকে যেন সব কষ্ট, সব কুদৃষ্টি ও হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ হেফাজত করেন। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন, আল্লাহর নামে।
করণীয় সমূহ
নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা, বিশেষ করে সুরা ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক ও নাস।
প্রতিদিন আয়াতুল কুরসী পাঠ করা।
রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা।
নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো দোয়াগুলো পড়া।
এ কারণে বদনজরকে অবাস্তব বা ভিত্তিহীন মনে না করে কুরআন–সুন্নাহ অনুযায়ী আত্মরক্ষার চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য জরুরি।
বদনজর থেকে বাঁচতে ২টি দোয়া
১. সকাল ও সন্ধ্যায় সাতবার করে পাঠ করুন
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী ও প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য এই দোয়া পড়তেন। সহিহ বুখারি।
২. সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠ করুন
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা‘আ ইসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা’ই, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ওসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। সুনানে তিরমিজি।
তিন কুল আমল
এ ছাড়া সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই আমল প্রতিটি ক্ষতিকর জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট। সুনানে তিরমিজি।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে বদনজরসহ সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন এবং কুরআন–সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।